দাম কম হওয়ায় পাকা ধানে আগুন দিলেন টাঙ্গাইলের কৃষক | |

দাম কম হওয়ায় পাকা ধানে আগুন দিলেন টাঙ্গাইলের কৃষক

ধানের দাম কম হওয়ায় নিজের ক্ষেতের পাকা ধানে আগুন দিয়েছেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধানচাষি আব্দুল মালেক সিকদার।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা এলাকায় তিনি ধানক্ষেতে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর আপনাআপনিই আগুন নিভে যায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, টাঙ্গাইলে এখন প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে পাঁচশ টাকায়। আর একমণ ধান উৎপাদনে খরচ হয় সর্বনিম্ন পাঁচশ টাকা।

ধান চাষের ধাপগুলোর মধ্যে রয়েছে: বীজ কেনা, বীজ বপন, জমি তৈরি, রোপন, সার-পানি দেওয়া, জমির পরিচর্যা, ধান কাটা, মাড়ানো, শুকানো ও পরিষ্কারকরণ।

এ বিষয়ে মালেক সিকদার বলেন, জমি তৈরি থেকে শুরু করে ধান শুকানো পর্যন্ত এক শতাংশ জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ পড়ে সর্বনিম্ন আড়াইশ টাকা। আর দুই শতাংশে উৎপন্ন একমন ধান। অর্থ দুই শতাংশ জমির একমণ ধান উৎপাদনে খরচ হয় পাঁচশ টাকা। তাই মনের দুঃখে পাকা ধানে আগুন দিয়েছি।’

কালিহাতীর উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন পাকা ধানক্ষেত্রে আগুন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ঘটনা। কৃষকদের ধানের ন্যায্য মূল্য দেওয়া উচিত। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ইছাপুর গ্রামের কৃষক ফটিক মিয়া বলেন, ‘একজন ধানকাটা কামলারে দেওন লাগে ৮শ থেকে থেকে ৯শ টাকা। আর এহন হাটে ধানের দাম হইল ৫০০ টাকা মন। প্রায় দুই মন ধান বেইচ্চা এক কামলার টেকা দেওন লাগে। আবার মেলা সময় কামলাই পাই না।’

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেল কৃষি কর্মকর্তা এএম শহীদুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ ১৩ থেকে ১৪ হাজার টাকা। আর ধানের বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি বিঘায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা কৃষকের লোকসান হচ্ছে।

এমতাবস্থায় সরকারকে কৃষিকাজে যান্ত্রিকীকরণ ও ভর্তুকির পরিমাণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। তবেই কৃষক উপকৃত হবে বলে তিনি মনে করেন।

ধান ক্ষেতে আগুনের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আজ বিকেলে বিষয়টি শুনেছি। কাল সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে যাব।”

তিনি জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে এবং ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এদিকে, কালিহাতীর আউলটিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান মজনু নামের এক কৃষক তার ক্ষেতের পাকা ধান এলাকাবাসীকে বিনামূল্যে দিয়ে দিয়েছেন।

এলাকাবাসী ধান কেটে অর্ধেক নিজে রেখে বাকি অর্ধেক ক্ষেত মালিককে দিয়ে দিচ্ছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

কালিাহাতী উপজেলার চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বীজতলা থেকে শুরু করে প্রতি মণ ধান ঘরে তুলতে হাজার টাকার উপরে খরচ হয়; কিন্তু ধান বিক্রি করছি তার অর্ধেক দামে। এবার আমরা পথে বসে গেছি।’