গুরু-শিষ্যের মাঠেই শেষ লড়াই | |

গুরু-শিষ্যের মাঠেই শেষ লড়াই

‘আব কি বার, ৩০০ পার’। শুক্রবার ভোটের প্রচারের শেষদিনে চরম আত্মবিশ্বাস নিয়েই নতুন স্লোগান তুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মধ্যপ্রদেশে খারগোনের জনসভায় ফের একবার ক্ষমতায় ফিরবেন বলে দাবি করেছেন। নাগরিকদের নতুন ভারত গড়তে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ পর্বে সাত রাজ্য ও একটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলের ৫৯ আসনে ভোট হবে। তবে সবার নজর থাকবে বারানসি ও গোরক্ষপুরে। দুই আসনে বিজেপির দুই কাণ্ডারির জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হবে। মোদি সরাসরি মাঠের প্রার্থী। তিনি যে জিতবেন এটা অনেকটা নিশ্চিত। তবে জয়ের ব্যবধান কত বড় হয় সেটাই দেখার বিষয়। যোগী প্রার্থী না হলেও গোরক্ষপুরের বিজেপি প্রার্থী রবি কিষানের জয়-পরাজয়ের ওপরই নির্ভর করছে যোগীর জনপ্রিয়তা। কারণ ২০১৮ সালের অন্তর্বর্তী নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টির (সপা) কাছে বিজেপি ১৯৯১ সাল থেকে দখলে রাখা আসনটি হারিয়েছে।

মোদির একনিষ্ঠ ভক্ত, অনুসারী ও রাজনৈতিক শিষ্য যোগীর নীতি-আদর্শ-দৃষ্টিভঙ্গি সবটাই গুরুর মতো। শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা ভারত তা জানে। মোদি যেমন সংসারি নন, সন্ন্যাসী হওয়ায় আদিত্যনাথও সর্বত্যাগী। মোদির মধ্যে নেতৃত্ব দেয়ার যে ক্ষমতা রয়েছে, সেই ক্ষমতা আছে যোগীরও। সফল হওয়ার যে তাগিদ ও তাড়না মোদির মধ্যে লক্ষ্য করা গেছে, আদিত্যনাথের মধ্যেও তা পরিলক্ষিত। মোদির মতো তিনিও কড়া ধাতের রাজনীতিক। রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার মতো উত্তরপ্রদেশে বিজেপির যেসব এজেন্ডা রয়েছে, সেগুলো ঠিকঠাক উতরাতে গেলে আদিত্যনাথের মতোই একজন শক্তপোক্ত নেতার প্রয়োজন। ২০১৪ সালে বিজেপি যেমন জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মুখ মোদিকে বেছে নিয়েছিল। তার ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছিল। তেমনি গোরাজ্যখ্যাত উত্তরপ্রদেশের হিন্দু কট্টরপন্থীদের বাগে আনতে যোগীর মতো নেতার প্রয়োজন মনে করে বিজেপি। ভারতে ফের ক্ষমতায় বসতে চাইছেন মোদি। শুক্রবার জনসভায় তিনি বলেছেন, কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, কচ্ছ থেকে কামরূপ সবাই একযোগে বলছে, ‘আব কি বার, ৩০০ পার, ফির একবার মোদি সরকার।’ প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই বছরের নির্বাচন অন্যবারের চেয়ে আলাদা। কারণ ভারতের ভোটাররা দেশের জন্য ভোট করছেন, কোনো দলের জন্য নয়। নতুন ভারত গড়তে ভোট করছেন মানুষ।’ এদিন প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি মোদি। বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা জয়ের বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয়বারের মতো আমাদের সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসছে। বারানসিতে গতবার মোদির জয়ের মার্জিন ছিল ৩ লাখ ৭১ হাজার। আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল পেয়েছিলেন ২ লাখ ভোট। এবার অনেকটা ফাঁকা মাঠ। জোট প্রতিপক্ষ নেই বললেই চলে। অখিলেশ বা মায়াবতী কেউই তাই বারবার বারানসি যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি। জোটের হয়ে একটাই সভা তারা করলেন বৃহস্পতিবার দুপুরে। লড়াইটা বলতে গেলে কংগ্রেসের অজয় রায়ের সঙ্গেই। প্রিয়াংকা গান্ধী এখান থেকেই প্রচার শুরু করেছিলেন। শেষ বেলায় গত বুধবার তিনি আরও একবার রোড শো করলেন মন্দির নগরীতে। মোদির মার্জিন কংগ্রেস কমাতে পারবে কি?- প্রশ্ন ওটাই।