দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রীর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড | |

দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রীর চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড

ফেনীর দগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার চিকিৎসায় ৯ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের আইসিইইউতে তার চিকিৎসা চলছে।

রবিবার সকালে এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, রাফির শারীরিক অবস্থা যে কোনো সময় খারাপ হতে পারে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন জানান, মেডিকেল বোর্ডের মতামতের ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আজ থেকে নল দিয়ে তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। যে কোনো সময় পরিস্থিতি যে কোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

গতকাল শনিবার সকালে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে রাফি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান। সেখানে মুখোশ পরা ৪/৫ জন ছাত্রী তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাকে আটক করে পুলিশ।

ওই ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

মেডিকেল বোর্ডে যারা আছেন

রাফির চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের মধ্যে রয়েছেন বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন, অধ্যাপক আবুল কালাম, অধ্যাপক রাইহানা আউয়াল, অধ্যাপক নওয়াজেশ খান, অধ্যাপক লুৎফর কাদের, অধ্যাপক বিধান সরকার, অধ্যাপক মহিউদ্দিন, ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম ও জহিরুল ইসলাম।

এদিকে মাদরাসা ছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মর্মাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডা. সামন্ত লাল সেন। মেয়েটির চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করবে বলেও তিনি জানান।