উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য লুকিয়ে গাজরের রসে | |

উজ্জ্বল ত্বকের রহস্য লুকিয়ে গাজরের রসে

সুস্থ সজীব ত্বক কার না ভালো লাগে? আর সেটা পাওয়ার জন্য আমরা কতই না পরিশ্রম করি। অনেকে বিভিন্ন দামী প্রশাসধনী ব্যবহার করেন, চিকিৎসকের সাহায্যও নেন। তা সত্ত্বেও সবসময় কী ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখা সম্ভব হয়?

উজ্জ্বল ত্বক পেতে হলে এত পরিশ্রমের প্রয়োজন নেই, আপনার রান্নাঘরে একটু ঢুঁ মারলেই পেয়ে যাবেন এর উত্তর। বরং রান্নাঘরের প্রাকৃতিক জিনিসগুলি দোকান থেকে কিনে আনা রাসায়নিক বা কৃত্রিম নানা ক্রিম বা অন্য প্রশাসধনীর তুলনায় বেশি ভালো কাজ করে। এছাড়া এর কোনো পাশ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে না।

এমনই একটি উপাদান হলো গাজর। ত্বকের যত্নে গাজরের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গাজরকে সবজি বা তরকারির মধ্যে, স্যালাডের মধ্যে, জুস তৈরি করে— নানাভাবে খাওয়া যায়। এছাড়া ত্বকের ওপর গাজর বাস্তবিক অর্থে জাদু দেখাতে পারে। এমনই কয়েকটি গাজরের ফেসপ্যাক তৈরির উপায়-

শুষ্ক ত্বকের জন্য

গাজরের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে, ফলে ত্বকের ভিতরে পৌঁছে ময়েশ্চারাইজেশন জোগায় এবং ত্বককে চকচকে করে। একটি গাজরের অর্ধেক পেস্ট করে নিন। তার মধ্যে এক চামচ মধু ও এক চামচ দুধ মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট মেখে রাখুন। তারপরে ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

গাজরে প্রচুর ভিটামিন এ পাওয়া যায়। ১ টেবিল চামচ দই, বেসন এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রসের সঙ্গে গাজরের পেস্ট মিশিয়ে তা মুখে মেখে রাখুন। ১ ঘন্টা পরে উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন।

ত্বকের ফর্সা ভাব ফিরিয়ে আনতে

গাজরের রসের সঙ্গে দই এবং ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে ১৫ মিনিট মুখে মেখে রাখুন। তারপরে উষ্ণ জলে ধুয়ে ফেলুন। এটি নতুন কোষের গঠনে সাহায্য করবে।

সূর্য রশ্মি থেকে বাঁচতে

গাজরের মধ্যে থাকে বেটা ক্যারোটিন এবং ক্যারোটিনয়েডস, যা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে বাঁচাতে পারে। সূর্যের রশ্মির থেকে হওয়া পোড়াভাবও দূর করতে পারে। গাজরের রসের সঙ্গে সমপরিমাণ গোলাপ জল মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে ভরে রাখুন। রোদে বের হলে মাঝেমধ্যে মুখে তা স্প্রে করে নিন।

অ্যান্টি এজিং

অ্যালোভেরার সঙ্গে গাজরের রস মিশিয়ে মাখলে নতুন কোলাজেন তৈরি হবে। বলিরেখা দূর হয়ে আপনার ত্বকে বয়স বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব হবে। গাজরের মধ্যে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটি ত্বকের যেকোনো সমস্যা মোকাবেলা করে। শুধুমাত্র মাখার জন্যই নয় আপনার খাদ্যতালিকাতেও নিয়মিত গাজর রাখুন।