সু-প্রভাতের কন্ডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে | |

সু-প্রভাতের কন্ডাক্টর-হেলপার রিমান্ডে

বাসচাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী আবরার আহাম্মেদ চৌধুরী নিহতের মামলায় সু-প্রভাত পরিবহনের বাসের কন্ডাক্টর ও হেলপারের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াছির আহসান চৌধুরীর আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- কন্ডাক্টর মো. ইয়াছিন আরাফাত (২২) ও হেলপার মো. ইব্রাহীম হোসেন (২১)।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিমের (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক কাজী শরীফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ১৯ মার্চ ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে ছেড়ে আসা সু-প্রভাত পরিবহনের বাসের ড্রাইভার সিরাজুল ইসলাম গুলশান থানাধীন শাহজাদপুর বাঁশতলা অতিক্রম করার সময় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে বাসচাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই ঘটনায় বাসের যাত্রীরা ড্রাইভার সিরাজুলকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করে। উপস্থিত জনতা বাসের ক্ষতি করতে পারে, তা ভেবে বাসের কন্ডাক্টর ইয়াসিন বাসমালিকের নির্দেশে দ্রুত ঘটনাস্থল হতে বাস চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় নদ্দায় বিইউপির ছাত্র আবরারকে বাসচাপা দিয়ে হত্যা করে।

আরো বলা হয়, প্রাথমিকভাবে বাসচালক সিরাজ বাস চালিয়ে দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করায় পুলিশ ধারণা করেছিল, সে-ই আবরারকে হত্যা করে। সে কারণে পুলিশ তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে আনে। মামলার তদন্তভার ডিবির নিকট ন্যস্ত হয়। গোয়েন্দা পুলিশ রিমান্ডে থাকা বাসচালক সিরাজের স্বীকারোক্তি মতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে। কোনো ধরনের ড্রাইভিং লাইসেন্স পারমিট না থাকার সত্বেও বাসমালিক ননী গোপাল সরকারের নির্দেশনায় কন্ডাক্টর ইয়াছিন বেপরোয়া গতিতে বাসটি চালিয়ে দুর্ঘটনার মাধ্যমে আবরারকে হত্যা করে। হত্যা করার পর সে বাস ফেলে আত্মগোপন করে।

মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও বাসের মালিককে গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের স্বার্থে আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিন আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

মঙ্গলবার দিনগত রাতে চাঁদপুরের শাহরাস্তি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত ও তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবার সকালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে হেলপার ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

মামলাটিতে গত ২০ মার্চ সু-প্রভাতের চালক সিরাজুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১৯ মার্চ রাতে আবরার নিহতের ঘটনায় তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আরিফ আহাম্মেদ চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আবরার ১৯ মার্চ সকাল ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে বের হয়। বসুন্ধরা গেটে এসে নেমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে ওঠার জন্য বসুন্ধরা সিটি গেটের সামনে প্রগতি সরণি জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে আইকন টাওয়ারের সামনে একটি ঘাতক বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৪১৩৫) চালক সিরাজুল ইসলাম আবরারকে চাপা দেয়। বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে আবরার ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এর আগে সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে সিরাজুল ইসলাম প্রগতি সরণি বাড্ডার দিক হতে বেপরোয়া ও দ্রুত গতিতে বাস চালিয়ে এসে গুলশান থানাধীন শাহজাদপুরের বাঁশতলায় পথচারী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দেয় এবং গুরুতর আহত করে।