লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গোপালগঞ্জে খামারীদের মৌ চাষ | |

লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গোপালগঞ্জে খামারীদের মৌ চাষ

প্রায় দুই কোটি টাকার মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ফসলী মাঠে বক্স স্থাপন করেছে শতাধিক মৌ চাষী। মৌ চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাল হচ্ছে পরাগায়ন। তৈলবীজ ও অন্যান্য ফসলের দানা মোটা আকার ধারণ করে। ফলে ফসল উৎপাদন বেড়ে যায়। এতে কৃষক ও মৌ চাষী সমান ভাবে লাভবান হচ্ছেন।

মৌ খামারীরা গোপালগঞ্জ সদর, কাশিয়ানী, মুকসুদপুর, টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলার সরিষা, সূয্যমুখী, কলাই, তিষি, কালোজিরাসহ বিভিন্ন ক্ষেতে মৌ মাছির প্রায় ৫ হাজার বক্স স্থাপন করে মধু সংগ্রহ করছেন। এ যাবৎ দেড় কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করেছেন বলে মৌ খামারীরা জানিয়েছেন।

মৌ চাষ অত্যন্ত লাভ জনক। শুধু মধু নয়, মৌমাছি ও মোম বিক্রি করেও এখান থেকে প্রচুর আয় করা সম্ভব। এসব মৌ চাষীদের দেখাদেখি গোপালগঞ্জের শিক্ষিত অশিক্ষিত বেকার এমন কি পড়া লেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও মৌ খামার করতে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। মৌ চাষ লাভ জনক হওয়ায় এলাকার অনেকেই মৌ চাষ করে সাবলম্বী হয়েছে। অনেক বেকারের সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশে মৌ খামারের সংখ্যা বাড়ছে। অত্মপ্রত্যয়ী কোন উদ্যোক্তা সামান্য বিনিয়োগ করেই ইউরোপিয়ার এফিস মেলিফেরা মৌমাছি দিয়ে মৌ খামার স্থাপন করতে পারেন। গোপালগঞ্জে উৎপাদিত মধু ঢাকাসহ স্থানীয় পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। প্রতি কেজি মধু প্রকার ভেদে ২শ’ থেকে ৪শ টাকা দরে বিক্রি হয়।

গোপালগঞ্জ শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের কৃষি বিভাগের ছাত্র মোঃ আব্দুল্লাহ ইবনে আজিজ বলেন, আমি পড়াশোর পাশাপাশি মৌ খামার গড়েছি। মধু সংগ্রহে করে লাভবান। নিজে সাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে ভূমিকা রাখছি।

গোপালগঞ্জ মৌ চাষ প্রকল্পের স্বত্ত্বাধিকারী মোঃ রোদেয়ান হোসেন বলেন,গোপালগঞ্জের মঠে ১০০ মেঃ টন মধু উৎপাদিত হবে। আমরা যার বাজার দর পাবো ২ কোটি টাকা। আমাদের উৎপাদিত মধু আমরা ঢাকায় বাজারজাত করি। মৌ চাষ অত্যন্ত লাভ জনক হওয়ায় গত ৫ বছরের মধ্যে সারাদেশে অন্তত ৫ হাজার মৌ খামার গড়ে উঠেছে। এখানে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ ভাবে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী জানান, গত ২ মাসে মৌ খামরীরা দেড় কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করেছে। সামনে আরো অর্ধ কোটি টাকার বেশি মধু আহরণ করা সম্ভব হবে।