মেশিনারিজ উৎপাদনে বিনিয়োগে চীনের উদ্যোক্তাদের আহ্বান | |

মেশিনারিজ উৎপাদনে বিনিয়োগে চীনের উদ্যোক্তাদের আহ্বান

মেশিনারিজ উৎপাদনে শিল্প-কারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগে চীনের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

সোমবার রাজধানীর ঢাকা চেম্বার কার্যালয়ে ডিসিসিআই এর সভাপতি ওসামা তাসীরের সাথে চীনের দি ডিপার্টমেন্ট অফ কমার্স অফ ইউনান প্রভিন্স এর বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ইউয়ান লিন এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে এ আহবান জানানো হয়।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২ দশমিক ৪০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আমদানি ও রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১১৭০৬ ও ৬৯৪ দশমিক ৯৭ মার্কিন মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

আমি আশা করছি যে, ২০২১ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে এসে দাঁড়াবে। ইউনান প্রদেশ মেশিনারিজ উৎপাদনে অত্যন্ত দক্ষতার সাক্ষর রেখেছে এবং এ খাতের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে আরো বেশি হারে বিনিয়োগ ও শিল্প-কারখানা স্থাপন ও বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং ফুলচাষের বহুমুখীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি উদ্ভাবন ও ব্যবহারে ইউনানের এ খাতের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, চীন ও আসিয়ান অঞ্চলের দেশসমূহরে সাথে সহযোগিতা আরো বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ‘লুক ইস্ট’ নীতিমালা গ্রহণ করেছে। আর বাংলাদেশে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য, পর্যটন, ফুল চাষাবাদ, ওষুধ, যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা এবং সমুদ্র অর্থনীতি প্রভৃতি খাতসমূহ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং এখাত সমূহে চীন ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা যৌথ বিনিয়োগ করতে পারে।

প্রতিনিধিদলের দলনেতা ইউয়ান লিন জানান, ২০১৮ সালে ইউনান প্রদেশের মোট আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং প্রদেশটি শুধুমাত্র মেশিনারিজ পণ্য রপ্তানি করেছেন ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ইউনান প্রদেশে মেশিনারিজ উৎপাদনে চীনের অন্যান্য প্রদেশের মধ্যে চতুর্থ এবং চীনের উদ্যোক্তারা এ খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনে আগ্রহী। পাশাপাশি ইউনান প্রদেশ প্রচুর পরিমাণে কফি, তামাক, রাবার, ফুল প্রভৃতি উৎপাদন করে থাকে।

বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের এ ধরনের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইউনানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ এবং ইউনান প্রদেশ বেশ কাছাকাছি অবস্থান করলেও তাদের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পায়নি। এমতাবস্থায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে আরো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আলহাজ্ব দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন, শামস মাহমুদ এবং এস এম জিল্লুর রহমান।