বরিশাল কারাগারে কয়েদির আত্মহত্যা! | |

বরিশাল কারাগারে কয়েদির আত্মহত্যা!

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে কবির সিকদার (৪০) নামের একজন কয়েদির ফাঁস লাগানো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কারা কর্তৃপÿের দাবি, গলায় ফাঁস দিয়ে ওই কয়েদি আত্মহত্যা করেছে।

কিন্তু কারাগারের যেখান থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়, তাতে এই কয়েদির মৃত্যু রহস্যজনক বলছে বিভিন্ন সূত্র।

আজ শুক্রবার দুপুর সোয়া একটার দিকে কারাগারের ডিভিশন ভবনের রান্নাঘরের স্টোর রুম থেকে গলায় ফাঁস লাগানো ও ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।

কারাগারের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কতিপয় কয়েদির নির্যাতনে কবির সিকদারের মৃত্যু হয়েছে।

তবে নির্যাতনের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক ও জেলার মো. ইউনুস জামান।

কবির সিকদার (কয়েদি নং-৫৩২৯/এ) পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার জামিরতলা গ্রামের দলিল উদ্দিন সিকদারের ছেলে। ভোলার মনপুরা থানায় চুরি মামলায় ১০ বছরের সাজা হয় তার। ২০১৮ সালের ২ আগস্ট থেকে তিনি চিকিৎসাজনিত কারণে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের ছিলেন।

বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. ইউনুস জামান জানান, ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চুরি মামলায় পৃথক দুটি ধারায় কবির সিকদারকে পাঁচ বছর করে ১০ বছরের কারাদÐ দেয়। সেই থেকে কবির ভোলা কারাগারে ছিলেন। বুকে ব্যথাজনিত কারণে তাকে সেখান থেকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। কিছুদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয় তাকে। কারাগারে ফিরে আসার পর তিনি ক্লিনার (ঝাড়–দার) হিসেবে কাজ করতেন।

আজ দুপুরে কবির সিকদারকে তার ওয়ার্ডে (এলাকায়) খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না উলেøখ করে জেলার বলেন, খোঁজাখুঁজির পর কারাগারের ডিভিশন ভবনের রান্নাঘরের স্টোর রুমের আড়ার সঙ্গে গলায় গামছা পেঁছানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়। তাকে উদ্ধার করে কারাগারের হাসপাতালে নেওয়া পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। কারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে  তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৭-৮ বছর ধরে ডিভিশনাল ভবনে কোনো কয়েদি আসছে না। তাই ওই ভবনটি একরকম পরিত্যক্ত অবস্থাতেই রয়েছে। বলেন ইউনুস জামান, ‘ভবনটির সামনে ও ভেতরের দরজায় তালা দেয়া রয়েছে, যাতে কেউ ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। যতটুকু ধারণা করা হচ্ছে ভবনের সীমানাপ্রাচীরের পাশের কাঁঠালগাছ বেয়ে ওই কয়েদি ভেতরে প্রবেশ করে।

তবে এটি আত্মহত্যা কি না সেটি তিনি নিশ্চিত নন বলেন জানান জেলার। বলেন, ‘ময়না তদন্ত করলে এর প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে। তবে এটি যে নির্যাতনের ঘটনা নয় সেটা আমরা নিশ্চিত। কেননা বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে এক হাজার ২৩৮ জন কয়েদি রয়েছে। নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটলে কেউ না কেউ দেখত।’

প্রত্যÿদর্শী কারা হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ ডিভিশন ভবনের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। আমার ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই হয়তো তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে তখন সে মৃত অবস্থায় ছিল।’ এর বেশি কিছু জানেন না বলে দাবি ফার্মাসিস্ট নাজির উদ্দিনের।

এদিকে কয়েদি কবির সিকদারকে মৃত ঘোষণা করা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার (এএমও) ডা. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই ওই কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। যারা মৃতদেহ নিয়ে এসেছে তারা আমাকে জানিয়েছে এটি আত্মহত্যা। তবে এটি আত্মহত্যা কি না তা ময়নাতদন্তে জানা যাবে।’

কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমার হাসপাতালের মর্গে লাশ প্রত্যÿ করেছি। কারা কর্তৃপÿ জানিয়েছে এটি আত্মহত্যা।’

কারাগারে কীভাবে কয়েদির আত্মহত্যার সুযোগ হলো কিংবা নির্যাতনের কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে কি না জানতে চাইলে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বনিক বলেন, ‘আত্মহত্যার পেছনে নির্যাতনের কোনো কারণ থাকতে পারে না। হতে পারে সে মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ায় আত্মহত্যা করেছে। তবে এই ঘটনায় কারো দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ পেলে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’