বগুড়ার একটি ভবনে বিপুল পরিমান সরকারি ওষুধ-সার্জিক্যাল সামগ্রী | |

বগুড়ার একটি ভবনে বিপুল পরিমান সরকারি ওষুধ-সার্জিক্যাল সামগ্রী

বগুড়া শহরের মফিজ পাগলার মোড় এলাকায় এসএস কমপ্লেক্সের তিনটি ফ্লোরে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ প্রাণ রক্ষাকারী ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রী পাওয়া গেছে। এ সময় মিজানুর রহমান রবিন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

সদর থানা পুলিশ রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এসব উদ্ধার শুরু করে।

রবিন জানান, ওষুধগুলো তিনি স্বল্প দামে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালের স্টোর কিপার ও সরবরাহকারীদের কাছে কিনেছেন। বিভিন্ন ক্লিনিকের মালিক ও চিকিৎসক তার ক্রেতা।

সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানিয়েছেন, সিজারলিস্ট করার পর ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রির মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তারা দাবি করেন, অসাধু চক্র এসব ওষুধ হাসপাতালে আসার আগেই বিক্রি করে দেয়। এরপরও তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা হবে। আর তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ও বিভাগীয় মামলা হবে।

বগুড়া সদর থানার এএসআই আবু তাহের জানান, তিনি শনিবার রাতে সোর্সের মাধ্যমে জানতে পারেন সারিয়াকান্দি উপজেলার চৌকিবাড়ি গ্রামের মো. রফিকের ছেলে মিজানুর রহমান রবিন শহরের মফিজপাগলার মোড়ে এসএস কমপ্লেক্সের তিনটি ফ্লোরে বিপুল পরিমান সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রি মজুদ করেছেন। রবিনের শহরে সাতমাথায় নদীবাংলা কমপ্লেক্সে রবিন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তিনি বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে রবিনকে গ্রেফতার ও ভবনের তিনটি ফ্লোর তালা দিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ভবনের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চমতলার কক্ষের তালা খুলে ভিতরে বিপুল পরিমাণ সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ এবং সার্জিক্যাল সামগ্রী জব্দ করা হয়।

বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুদ মজুদকারী মিজানুর রহমান রবিন জানান, তিনি গত দুবছর আগে শহরের মফিজ পাগলার মোড়ে একটি ভবনের তিনটি ফ্লোর ১৮ হাজার টাকা ভাড়া নেন। বগুড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার সরকারি হাসপাতালের স্টোর কিপার ও সরবরাহকারীদের কাছে ১০-১২ আইটেমের ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় ওষুধগুলো কিনেছেন। তার এ ওষুধের ক্রেতা বিভিন্ন ক্লিনিকের চিকিৎসক ও মালিক। তার এ অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত নেই।

এএসআই আবু তাহের আরও জানান, ওষুধ ও সার্জিক্যাল সামগ্রীগুলো উদ্ধারের পর সিজার লিষ্ট তৈরি করা হবে। এরপর এসবের মূল্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরে ওষুধ মজুদকারী মিজানুর রহমান রবিনের বিরুদ্ধে মামলা হবে।