চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে পাঁচ ব্যবসায়ী: বাণিজ্যমন্ত্রী | |

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে পাঁচ ব্যবসায়ী: বাণিজ্যমন্ত্রী

মাত্র চার-পাঁচজন বড় ব্যবসায়ী দেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, এ জন্য বিভিন্ন সময় হঠাৎ হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যায়। এই যোগসাজশ ভাঙতে চালসহ সব ধরনের ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী।’

তিনি আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রতিযোগিতা কমিশন আয়োজিত ‘টেকসই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নতুন সরকার গঠন করার কয়েক দিন পরই চালের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেল। তখন খাদ্যমন্ত্রীসহ চাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে আমরা জানতে পারি দেশে মাত্র চার-পাঁচজন বড় ব্যবসায়ী চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের যোগসাজশের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতির মুখে পড়ে।’ কোনো খাতের ব্যবসায়ীরা যাতে যোগসাজশ করতে না পারে সে ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে প্রতিযোগিতা কমিশনকে তাগিদ দেন মন্ত্রী।

সাধারণ জনগণের উপকারের জন্য ব্যবসায়িক খাতে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হওয়া দরকার এমন মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিযোগিতা না থাকলে ব্যবসায়ীরা যোগসাজশে পণ্যের মূল্য ইচ্ছামতো বাড়িয়ে দিতে পারে। আর প্রতিযোগিতা থাকলে ১০ টাকার পণ্য ৭ টাকায় পেতে পারে জনগণ।’

সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়াও অংশগ্রহণ ও প্রতিযোগিতামূলক হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বলেন, ‘কোথাও কোথাও এমনভাবে টেন্ডার করা হয় যেখানে অনেকে অংশগ্রহণই করতে পারে না, বা তাদের অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। এভাবে চলতে পারে না। দেশের টেকসই উন্নয়নে সব ক্ষেত্রেই প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে হবে।’

প্রতিযোগিতার সুফল তুণে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যখন প্রথম মোবাইল ফোন কিনলাম তখন দেশে একটি মাত্র মোবাইল কোম্পানি ছিল। সে জন্য সিটিসেলের একটি ফোনের দাম ছিল ৯০ হাজার টাকা। এখন মোবাইল ফোনের দাম অনেক কমে গেছে। অনেকগুলো কোম্পানির মধ্যে প্রতিযোগিতার জন্য এটা সম্ভব হয়েছে।’

টিপু মুনশি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গত বছরে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অতি দারিদ্র্যের হার ১২ শতাংশে নেমে এসেছে। দেশে মনোপলি (একচেটিয়া) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এসব সূচক আরও ভালো অবস্থায় আসবে।’

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন মো. ইকবাল খান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বাণিজ্যসচিব মো. মফিজুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দীন) প্রমুখ।