‘এসডিজি বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’ | |

‘এসডিজি বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে’

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সুষম উন্নয়নের স্বার্থে ‘এসডিজি’ সারাবিশ্বের জন্যই কল্যাণকর।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে ‘সবুজ জ্বালানি ও শিল্পের চালিকাশক্তি হিসেবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তির প্রয়োগ: এসডিজি’র ৭, ৯ ও ১২ এর প্রভাব’ শীর্ষক প্লেনারি অধিবেশনে সভাপতির বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি। ‘নবম থ্রিআর ফোরাম উপলক্ষে ব্যাংককের রয়াল অর্চার্ড শেরাটন হোটেলে এই অধিবেশনের আয়োজন করা হয়। খবর বাসসের।

ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অধিবেশনে বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এসডিজি’র ৭, ৯ ও ১২ এই তিনটি লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে এশিয়ার দেশগুলো দ্রুত অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে পারে।

নুরুল মজিদ বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি’র ৭, ৯ ও ১২ নং লক্ষ্য গুণগত শিল্পায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কারণ এগুলোতে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার, শিল্প উদ্ভাবনে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান, শিল্প সহায়ক অবকাঠামো তৈরি, শিল্পপণ্যের যৌক্তিক ভোগ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পরিচালক ড. স্টেফানোস ফটিউরের সঞ্চালনায় অধিবেশনে পৃথক তিনটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।

পৃথকভাবে উপস্থাপিত প্রবন্ধ তিনটির উপস্থাপক হলেন যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়ার আশিয়ান ইকোনোমিক রিসার্স ইন্সটিটিউটের ঊর্ধ্বতন জ্বালানি অর্থনীতিবিদ ড. ভেঙ্কটচলাম আনবুমোজী, জাপানভিত্তিক জাতিসংঘের আঞ্চলিক উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক কাজুশিগে এন্ডো এবং থাইল্যান্ডের শিল্প মন্ত্রণালয়ের ক্লিন টেকনোলজি ইউনিটের পরিচালক কিতিফন তাপুগাসসাগরন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। এখাতে বর্জ্য ও কাঁচামালের অপচয় হ্রাস, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং বর্জ্য পুনরায় ব্যবহারের জন্য পুন:প্রক্রিয়াকরণ বা থ্রিআর কৌশল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করছে। এর ফলে দেশীয় শিল্প কারখানায় কাঁচামালের অপচয় হ্রাসের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার দক্ষতা বাড়ছে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর চিত্র কমবেশি একই রকম উল্লেখ করে তিনি এসএমই খাতে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে থ্রিআর কৌশল প্রয়োগের তাগিদ দেন।

অধিবেশনে বক্তারা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগে এসএমই খাতে অর্থায়ন বৃদ্ধি, কর অবকাশ সুবিধা সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং ব্যবসায়িক সেবা বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

তারা এসএমই খাতে জৈব জ্বালানি প্রযুক্তির প্রয়োগ, সম্পদ দক্ষ ও উৎপাদনশীল ব্যবস্থাপনা এবং সবুজ শিল্পায়নের জন্য উদ্যোক্তাদেরকে জ্বালানি সাশ্রয়ী উপকরণ ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে জ্ঞান ও তথ্য বিনিময়, প্রচার জোরদার এবং অংশীজনদের নিয়ে সভা-সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন।

আফগানিস্তানের জাতীয় পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার মহাপরিচালক শাহ জামান মাইওয়ান্দি, থাইল্যান্ডের ওয়েস্ট টু এনার্জি গ্রুপের বিকল্প জ্বালানি উন্নয়ন ও দক্ষতা বিষয়ক বিভাগের প্রধান টার্নতিপ সেটচাচারনাট এবং রাশিয়ার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিভাগীয় প্রধান ওলগা গোলুব প্লেনারি অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন।