আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পিছিয়ে সরকারি ব্যাংক: বিআইবিএম | |

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পিছিয়ে সরকারি ব্যাংক: বিআইবিএম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সরকারি ব্যাংক পিছিয়ে পড়ছে। রপ্তানি বাণিজ্যে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বেশি অর্থায়ন করছে। ২০১৮ সালে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমেই রপ্তানি হয়েছে ৭৪ শতাংশ। প্রায় ১৯ শতাংশ অর্থায়ন হয়েছে বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে। আর মাত্র ৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে।

বুধবার ‘ট্রেড সার্ভিসেস অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক কর্মশালায় এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এবং বিআইবিএম নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ট্রেড সার্ভিসের উপর নির্ভরশীল। প্রত্যেকটি দেশে ট্রেড সার্ভিসের ক্ষেত্রে আলাদা রেগুলেশন রয়েছে। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১৮ সালে নতুন গাইডলাইন করেছি।’

‘বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং তত্ত্বাবধানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন গাইড লাইন আরও কার্যকরী করতে হবে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন ভিত্তিক রিপোটিং এবং নজরদারী ব্যাংকিং খাতে অনিয়ম ঠেকাতে এবং ডাটা সঠিকভাবে প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

বিআইবিএমের চেয়ার প্রফেসর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক বরকত-এ-খোদা বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে এজন্য দক্ষ কর্মী গড়ে তোলা প্রয়োজন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই রফতানির প্রবৃদ্ধিও বাড়বে। এর সঙ্গে ব্যাংকের অর্থায়ন জড়িত। সুতরাং ব্যাংকর্মীদের প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ জোরারোপ করতে হবে।’

পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা পণ্য মূল্য বেশি দেখাতে না পারে সেজন্য ব্যাংকারদের সর্তক থাকতে হবে। একটি ডাটা বেজ করতে পারলে কোন ব্যবসায়ী এ ধরণের অনিয়ম করার সুযোগ পাবে না।’

‘ব্যাংকগুলোকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্য হলে সঠিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অর্থায়ন করা সহজ ও নিরাপদ হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি ইয়াছিন আলি বলেন, ‘ব্যাংকাররা সর্তক থাকলে আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যে কোন অনিয়ম করার সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং বিআইবিএমের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় বাণিজ্য প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। এজন্য আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যে কোথায় সমস্যা আছে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে ব্যাংকারদের বড় ঋণ এবং বড় এলসি খোলার ক্ষেত্রে সর্তক থাকতে হবে। গ্রাহক সম্পর্কে পুরোপুরি না জেনে অর্থায়ন করা ঠিক নয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ তারিকুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী আর্ন্তজাতিক বাণিজ্য যেমন বেড়েছে, একে ঘিরে জটিলতা এবং আর্থিক অপরাধও বাড়ছে। যা এখন ব্যাংকিং খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যাংক কর্মীদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’

এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কাস্টমস ভ্যালুশন অ্যান্ড ইন্টারনাল অডিট কমিশনারেটের কমিশনার মঈনুল খান বলেন, ‘রাজস্ব বোর্ড আর্ন্তজাতিক বাণিজ্যের সব বিষয়ে সর্তক। এখন কিছু ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপন আপডেট করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’