আদালতে অন্য রূপে পুত্রবধূ পিয়া | |

আদালতে অন্য রূপে পুত্রবধূ পিয়া

মডেল ও অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া পাশাপাশি একজন আইনজীবী এবং বনানীর এফ আর টাওয়ারের জমির মালিক প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুকের পুত্রবধূ। আজ আদালতে শ্বশুরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।

ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসিন আহসান চৌধুরীর আদালতে ওই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। কাঁঠগড়ায় দাঁড়ানো ছিলেন এস এম এইচ আই ফারুক ও তাসভীর-উল-ইসলাম।

শুনানির একপর্যায়ে এস এম এইচ আই ফারুকের পক্ষে কথা বলা শুরু করেন আইনজীবী পিয়া।

শুনানিতে পিয়া বলেন, ‘স্যার (বিচারক) আমি কি একটু কথা বলতে পারি? আমার আশপাশে অনেক লার্নেড (বিজ্ঞ) স্যারেরা আছেন। তারপরও আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমি যদিও নিজেই এ (এফ আর টাওয়ার) বিল্ডিংয়ে অফিস করি। আমার না বলে তো উপায় নেই। এখানে পুলিশ বলেছে, ভূমি মালিক। আমরা হচ্ছি ভূমি মালিক। কিন্তু আমরা বিল্ডিংয়ের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলাম না। বিল্ডিং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিল একিম অ্যাসোসিয়েশন

ওই ভবনে প্রথমে লিফট ছিল না, আজকে লিফটেও কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। এস এইচ এম আই ফারুক তিনি নিজের টাকা খরচ করে লিফট করেছেন।’

পিয়া শুনানিতে বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতে আরেকটি তথ্য দিয়ে রাখি। ২০০৮ সালে এই টাওয়ারে আরো একবার আগুন লাগে। সে ঘটনায় এস এম এইচ আই ফারুক বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি সে সাধারণ ডায়েরিতে পরিষ্কার করে লিখেছেন, অগ্নি নির্বাপনের জন্য এখানে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ২০০৮ সাল থেকে আজকে ১১ বছর। ১১ বছর আগে ফারুক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছিলেন, একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। রিমান্ড আবেদনের আরেকটা কথা বলেছে, সহ-আসামি ধরার জন্য রিমান্ড? আব্বা (শ্বশুর আব্বা) যখন, সরি এস এম এইচ আই ফারুক যখন জমিটি ডেভেলপারের কাছে দিয়ে দেন তখন আর তাঁর কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। যদিও আমি বলব, দুজনই বয়স্ক ব্যক্তি। তাঁদের রিমান্ডে যেন না নেওয়া হয়। তাই বলব, আপনি (বিচারক) রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করবেন।’

এরপর ফারুকের প্রধান আইনজীবী আল মনসুর রিপন শুনানি করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসিন আহসান চৌধুরী ওই দুজনের সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার রাতেই তাসভীর-উল-ইসলাম ও ফারুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বরে ভূমি মালিক ইঞ্জিনিয়ার ফারুক ও রূপায়ণ গ্রুপ যৌথভাবে নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। তখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য নকশা অনুমোদন দেয়। কিন্তু ভবনটি ২১তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০ ও ২১ তলাটি জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য মাইদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে। মাইদুল ইসলামের কাছ থেকে ফ্লোর দুটি কিনে নেন কাশেম ড্রাইসেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিএনপি নেতা তাসভীর-উল-ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তিনি ছাদের ওপর আরো দুইতলা নির্মাণ করে ভবনটিকে ২৩ তলা পর্যন্ত বর্ধিত করেন।