রিজার্ভ চুরির মামলায় বাংলাদেশকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি | |

রিজার্ভ চুরির মামলায় বাংলাদেশকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলায় বাংলাদেশকে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক (নিউইয়র্ক ফেড)।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকটি।

তিন বছর আগের ওই হ্যাকিংয়ে নিউইয়র্ক ফেডে রক্ষিত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত অর্থের মধ্যে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সময় বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ৭টা) নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনকে (আরসিবিসি)।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ফিলিপাইনের মানি এক্সচেঞ্জ হাউস, দুটি ক্যাসিনো এবং বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

আসামির তালিকায় আরসিবিসি ব্যাংকসহ ৬টি প্রতিষ্ঠান ও ১৫ ব্যক্তির নাম আছে বলে জানা গেছে। এতে চুরি হওয়া অর্থসহ মামলা পরিচালনার সমুদয় ব্যয় এবং দোষীদের শাস্তি দাবি করা হয়েছে।

মামলায় বলা হয়, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের নিউইয়র্ক শাখায় রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা হাতিয়ে নেয়। এ বিপুল পরিমাণ অর্থ চুরির মধ্যে ফিলিপাইনে যায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং শ্রীলংকায় যায় ২ কোটি ডলার। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলংকা থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ফিলিপাইনের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার গেছে আরসিবিসিতে। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাসহ আরও বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তারা মানি লন্ডারিংয়ের বিধিবিধান পরিপালন না করে ওই সব অর্থ ছাড় করার মাধ্যমে পাচার করতে সহায়তা করেছে।

এতে আরও বলা হয়, ব্যাংকটির শীর্ষ কয়েক কর্মকর্তা এ অর্থ চুরির জন্য কয়েক বছর ধরে ‘বড় ধরনের’ ‘জটিল ষড়যন্ত্র’ করেন। অজ্ঞাতনামা উত্তর কোরীয় হ্যাকাররা এ চুরিতে সহায়তা করেছে। অর্থ চুরির পর তা ফিলিপাইনের আরসিবিসির অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে মানি এক্সচেঞ্জ হয়ে এর বেশির ভাগ অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনোর মাধ্যমে পাচার করে দেয়া হয়।

মামলায় আরও বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর আরসিবিসি এবং এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল। কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে তা জেনেও অ্যাকাউন্ট খোলা, বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর এবং পরে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার বিষয়গুলো কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই ঘটতে দিয়েছেন তারা।