প্রতিবেদন দিতে না পারায় বিব্রত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | |

প্রতিবেদন দিতে না পারায় বিব্রত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাত বছরেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারায় বিব্রত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

এই সাংবাদিক দম্পতির সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সোমবার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করে এ দিতে গেলে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

কামাল বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সরকার আন্তরিক। আমরা প্রতিনিয়ত এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি। আশা রাখি দ্রুতই এর একটা সমাধানে পৌঁছাতে পারব।’

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারে বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয় সাগর-রুনিকে। সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা আর হয়নি। কারা কেন তাদেরকে হত্যা করেছে সেটা এক দুর্লঙ্ঘনীয় রহস্য হয়ে রয়েছে।

এ নিয়ে নিহতের স্বজনদের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীরাও ব্যাপকভাবে হতাশ। মোট ৬২ বার সময় চেয়েও প্রতিবেদন দিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

গত ৯ জানুয়ারি মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্তের দায়িত্বে থাকা র‌্যাব প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রীকে সাংবাদিক নেতারা বলেন, আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে এবং প্রকৃত খুনিদের মুখোশ উন্মোচন করে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি যে তারিখ নির্ধারিত রয়েছে সেই তারিখেই যেন আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়। আর যেন সময় নষ্ট করা না হয় সেজন্য মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘যে কোনও হত্যার বিচার পাওয়া নাগরিকের অধিকার। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বড় বড় হত্যা রহস্য উন্মোচন ও অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করেছে। সাগর-রুনি হত্যার কোনও কূল কিনারা তারা করতে পারবে না এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কোন অদৃশ্য শক্তি বা বাধার কারণে এই হত্যার তদন্তের নামে বছরের পর বছর কালক্ষেপণ করা হচ্ছে সেটাই এখন বড় রহস্য।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল বারী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশাহ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।