শেয়ারবাজার: দশ মাসের সর্বোচ্চ উল্লম্ফন | |

শেয়ারবাজার: দশ মাসের সর্বোচ্চ উল্লম্ফন

জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই দেশের শেয়ারবাজারে উল্লম্ফন দেখা দিলেও মঙ্গলবার দশ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উত্থান হয়েছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স প্রায় সাড়ে ৯ মাস পর আবারও ৫ হাজার ৭০০ পয়েন্ট অতিক্রম করেছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, নির্বাচনের পর নতুন বছরে শেয়ারবাজারে ছয় কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ কার্যদিবসেই মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে। এতে নতুন বছরের প্রথম ছয় কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে ৩৮৫ পয়েন্ট। আর শেষ ১৩ কার্যদিবসে সূচকটি বেড়েছে ৫৫২ পয়েন্ট।

অবশ্য টানা ১১ কার্যদিবস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর সোমবার ডিএসই এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) কিছুটা দরপতন হয়। তবে এ দরপতনের পরের কার্যদিবসেই দশ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ উত্থানের দেখা মেলে। সেই সঙ্গে ২০১৮ সালের ১ এপ্রিলের পর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স একদিনেই একশ পয়েন্টের ওপরে বেড়েছে।

মূল্যসূচকের বড় উত্থানের পাশাপাশি এদিন বাজারে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ২৩৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। দাম কমেছে ৮৫টির। আর ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৭০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিলের পর সূচকটি আবারও ৫ হাজার ৭০০ পয়েন্টের ঘরে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালের এপ্রিলের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইএক্স সূচকটি ছিল পাঁচ হাজার ৭৩৯ পয়েন্টে।

প্রধান মূল্যসূচকের পাশাপাশি বড় উত্থান হয়েছে অপর দুটি মূল্যসূচকেও। এর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩০৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিকে মূল্যসূচক ও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার পাশাপাশি মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। দিনভর বাজারে লেনদেন হয়েছে এক হাজার ১০ কোটি তিন লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৬৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে এদিন ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৩ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা জেএমআই সিরিঞ্জের ২০ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২০ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বেক্সিমকো। লেনদেনে এরপর রয়েছে- আলিফ মেনুফ্যাকচারিং, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, অ্যাকটিভ ফাইন, ইফাদ অটোস, বিবিএস কেবলস এবং ঢাকা ব্যাংক।