বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংকে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে | |

বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংকে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে

সরকারি-বেসরকারি বেশিরভাগ ব্যাংকের পরিচালন মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে মুনাফা বেড়েছে সবচেয়ে বেশি বেসরকারি ব্যাংকের।

যদিও এটি প্রকৃত মুনাফা নয়। বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ এবং আয়কর প্রদানসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিলে নিট মুনাফা অনেক কমে যাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের জুন থেকে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা আসে। কয়েকটি ব্যাংক এটি কার্যকরেরও ঘোষণা দেয়। আর সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনলে ব্যাংকের বেশি লাভ করার সুযোগ থাকে না। অথচ প্রায় সব ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে।

সূত্র জানায়, আয় থেকে ব্যয় বাদ দিয়ে যে মুনাফা থাকে, সেটিই কোনো ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা। পরিচালন মুনাফা থেকে খেলাপি ঋণ ও অন্যান্য সম্পদের বিপরীতে প্রভিশন (নিরাপত্তা সঞ্চিতি) এবং সরকারকে কর দিতে হয়। প্রভিশন ও কর-পরবর্তী এ মুনাফাই হল একটি ব্যাংকের প্রকৃত বা নিট মুনাফা। সূত্রমতে, দেশের বেশিরভাগ বেসরকারি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা বেড়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালে সর্বোচ্চ পরিচালন মুনাফা করেছে ইসলামী ব্যাংক। এ সময় ব্যাংকটি ২ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা আয় করে। যা গত বছর ছিল ২ হাজার ৪২০ কোটি টাকা। একইভাবে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। যা গত বছর ছিল ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। পূবালী ব্যাংক পরিচালন মুনাফা করেছে ১ হাজার ২৫ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে যা ছিল ৯১৫ কোটি টাকা।

প্রথমবারের মতো ১ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিচালন মুনাফা পেয়েছে সাউথইস্ট ব্যাংক। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৯০৬ কোটি টাকা। ব্যাংক এশিয়া পরিচালন মুনাফা পেয়েছে ৮১০ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে যা ছিল ৬৭২ কোটি টাকা। প্রাইম ব্যাংক মুনাফা করেছে ৫৭৫ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে যা ছিল ৫৩৭ কোটি টাকা। পরিচালন মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি এসেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকেরও। ব্যাংকটি প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পেয়েছে। ২০১৭ সালে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ছিল ৩৫৮ কোটি টাকা। ৭০৫ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পেয়েছে এক্সিম ব্যাংক। ২০১৭ সালে ব্যাংকটি ৬৫০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছিল। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ২০১৭ সালে পরিচালন মুনাফা ৪১৬ কোটি টাকা পেলেও এবার পেয়েছে ৫১৫ কোটি টাকা।

ফারমার্স ব্যাংক ছাড়া ভালো পরিচালন মুনাফা পেয়েছে নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোও। ২০১৭ সালে ১৪৬ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পাওয়া মধুমতি ব্যাংক চলতি বছর ২০০ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে। এ ছাড়া ২০১৭ সালে ২০০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পাওয়া এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক চলতি বছর ২০৩ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক পরিচালন মুনাফা পেয়েছে ২০৫ কোটি টাকা। ২০১৭ সালে যা ছিল ১৮২ কোটি টাকা। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের অন্যান্য ব্যাংকেরও পরিচালন মুনাফায় ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০১৭ সালের তুলনায় চলতি বছর পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হয়েছে বেসিক ব্যাংকের। লুটপাটের শিকার ব্যাংকটি চলতি বছর বড় অঙ্কের পরিচালন লোকসান গুনেছে। তবে খেলাপি ঋণ থেকে আদায় বাড়ায় ভালো করেছে হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে বিপর্যস্ত সোনালী ব্যাংক। ২০১৮ সালে ব্যাংকটি প্রায় ২ হাজার ৫৮ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে। ২০১৭ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ছিল ১ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা। বছরব্যাপী আমানত নিয়ে অস্থিরতাও ব্যাংকটির জন্য আশীর্বাদ ছিল। অলস পড়ে থাকা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার আমানত উচ্চসুদে কলমানি এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ধার দিয়ে ভালো মুনাফা করেছে সোনালী ব্যাংক। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক চলতি বছর প্রায় ৯৫৫ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা পেয়েছে। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ছিল ৮৬৭ কোটি টাকা।

প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পরিচালন মুনাফা পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। ২০১৭ সালে যা ছিল ১ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। প্রায় ৩৭০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা পেয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক। তবে ২০১৭ সালে মুনাফা ছিল ৫০৮ কোটি টাকা। অবশ্য এ সময় ব্যাংকটি লোকসানি শাখা ৩৩টি থেকে কমিয়ে ৯টিতে নামিয়ে এনেছে। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) পরিচালন মুনাফা পেয়েছে ১১৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০১৭ সালে ছিল ১১৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।