নতুন উদ্যমে আগামীর সন্ধানে স্বাগত ২০১৯ | |

নতুন উদ্যমে আগামীর সন্ধানে স্বাগত ২০১৯

স্বাগত নতুন বছর। যেকোনো বর্ষবরণে মিশে থাকে আগামীর পথচলার ভাবনা। মিশে থাকে ভবিষ্যৎ দেখার ইচ্ছা। এভাবেই এগিয়ে চলে মানুষ। নতুন উদ্যমে, নতুন আগামীর সন্ধানে। তাই পেছন ফিরে দেখা নয়। নতুন স্বপ্নের সম্ভাবনায় আগামীকেই স্বাগত জানাতে প্রস্তুত গোটা বিশ্ব। বাংলাদেশও প্রস্তুত শান্তির বাতাবরণে সগর্ব পদচারণে।

বছরের শেষ প্রান্তে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় নির্বাচন। এতে বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় প্রায় ২১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। তবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের তরফে এসেছে সন্তোষ। আর বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধানরাও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ফের প্রধানমন্ত্রী হতে যাওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে।

এর পরও রয়েছে শঙ্কা। সেই শঙ্কা অপশক্তিকে ঘিরে। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে এই পর্যন্ত এ দেশ নিয়ে দেশি-বিদেশি চক্রান্তের নিপাত হয়নি। নানা বেশে অপশক্তিরা থামিয়ে দিতে চেয়েছিল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা। ২০১৯ সালেও সেই চক্র নানাভাবে দেশে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের সদা-সতর্ক মানুষের সক্রিয়তায় কোনো অপশক্তিই এ দেশের সগর্ব অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি।

২০০৯ সালে বঙ্গবন্ধু-কন্যা দেশের হাল ধরার পর সেই অগ্রযাত্রা ক্রমে বেড়েই চলেছে। মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশ আজ দক্ষিণ এশিয়ায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। সরকারের নেওয়া ১০টি মেগা প্রকল্প পাল্টে দিচ্ছে গোটা দেশের আর্থসামাজিক চিত্র। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যেই এসব প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সুফল পেতে থাকবে বাংলার মানুষ। বাংলাদেশ আজ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে চলেছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকারের অধীনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চলেছে। তেমন কিছু চমক না থাকলেও বঙ্গবন্ধু-কন্যার হাত ধরেই চলবে এই রাষ্ট্র। ২০০৯ সাল থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী। তার শাসনামলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে। এ ছাড়া বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশ তৈরি করে নিয়েছে নিজের দাপুটে অবস্থান।

নতুন সরকারের জন্য উল্লেখযোগ্য সাত দিক

১. নির্বাচনপরবর্তী সংঘাত

রাজনৈতিক সংঘাতে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ঠিক পরের মুহূর্তেই এল নতুন বছর। ফলে এই বছর শাসকবিরোধী পক্ষ সংঘাতের চেষ্টা চালাতে পারে। রাজপথে সংঘাত উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না একেবারেই।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন লেখনীতে এবারের নির্বাচনেও ক্ষমতাসীদের জয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছিল। তবে এত বিপুল জয় আসবে- সেটি ধারণা ছিল না। সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে আভাস দিয়ে ভোট-পরবর্তী অস্থিরতা থাকবে বলেও জানিয়েছে তারা।

২. খালেদা ইস্যুতে চাপ বাড়াতে পারে বিএনপি

নতুন সরকার এ বছর আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। সেই চাপ আসতে পারে বিএনপির নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তিকে কেন্দ্র করে। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত দলের নেত্রীকে মুক্ত করতে রাজপথের আন্দোলনে নামতে পারে বিএনপি। এই ঘোষণা এরই মধ্যে আছে।

 

৩. এরশাদের রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি

পতিত সামরিক শাসক এরশাদের রাজনৈতিক জীবনের সমাপন হতে পারে। নব্বইয়ের কোটায় থাকা এরশাদ নিজেই একাধিকবার জানিয়েছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচন তার জীবনের শেষ নির্বাচন। ফলে এই সরকারের অংশীদার এরশাদ রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই সরে যেতে পারেন। তার দলের হাল উঠতে পারে স্ত্রী রওশন এরশাদের হাতে।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে বলেছেন, তিনি লাঙ্গলের প্রার্থীদের নৌকায় তুলে নেবেন। তবে এটির জন্য পাঁচ বছরের অপেক্ষায় থাকতে হবে কি না, সেটা জানাননি তিনি।

৪. যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রাখা

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার। ক্ষমতায় এসে সেই কথা রেখেছে দলটি। ইতোপূর্বে একের পর এক যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আলবদর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং পাবনা শান্তি কমিটির প্রধান আবদুস সুবহানের আপিল আবেদনের নিষ্পত্তির আশা করা হচ্ছে নতুন বছরে।

৫. তিস্তা চুক্তির চাপ

তিস্তায় পানি থাক বা না থাক, ভারতের কূটচালে নদীটার জল কম ঘোলা হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত তিস্তা নদীর পানিবণ্টন ঘিরে ভারত কূটনৈতিক চাপে পড়তে পারে।

 

এই চুক্তিতে আপত্তি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। তবে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সেটি বাংলাদেশের জন্য বিবেচ্য নয়। কারণ, এই চুক্তি হবে ঢাকা-দিল্লির। ফলে চুক্তি নিয়ে জটিলতা থাকছেই। তবে এই মেয়াদে ‘তিস্তার পানি’ আদায়ে ঢাকা মরিয়া চেষ্টা চালাবে।

৬. দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর প্রতিশ্রুতি

দেশি-বিদেশি চক্রান্তে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন থেকে সরে যায় বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠান। আর স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশে নিজস্ব অর্থায়নেই তৈরি হচ্ছে এ-যাবৎকালে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু। ক্ষমতাসীন সরকার এটিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিয়েছে। সেতুটি নির্মাণ শেষ করে পদ্মার ওপর আরও এক সেতুর ঘোষণা আসতে পারে। ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনটাই আভাস দিয়েছেন।

 

৭. বাংলাদেশচীন প্রগাঢ় সম্পর্ক

চীনের প্রস্তাবিত ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার সব রাষ্ট্রেরই আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশ এর মধ্যে অন্যতম। চীন বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুরাষ্ট্র। সরকারের এই মেয়াদে বেইজিং-ঢাকা কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও প্রগাঢ় হয়েই দেখা দেবে। এরই মধ্যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ায় দেশটির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তাও এসেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশে আরও বিপুল পরিমাণ চীনা বিনিয়োগ আসছে বলেও আভাস মিলেছে।