হাসান সারওয়াররের লেখাঃ ‘জীবনের অধ্যায়’ ২য় পর্ব | |

হাসান সারওয়াররের লেখাঃ ‘জীবনের অধ্যায়’ ২য় পর্ব

জীবনের দোলনায় দোলনা খেতে খেতে কখনো উপরে পৌঁছেছি আবার নিচেও ফিরে এসেছি।যার উপরে ভর করে দুল ছিলাম সে যেকোনো সময়ে সঙ্গ ছেড়ে দিবে তার টেরও পেয়েছি অনেক বার।

দোলনার গতিকে সামলাতে না পেরে আছড়িয়ে ও পড়েছি কিন্তু তাকে আবার জোড়া লাগিয়ে জীবনের দোলনার দোলনকে উপভোগ করেছি।আজ শক্ত রশিটা দুলতে দুলতে ছিন্ন ভিন্ন আকার নিয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে।সে যে আজ আর ঠিক হবার নয় তাই ব্যর্থ চেষ্টা না করে বাড়ি ভর্তি দুঃখে ভরাডুবি আপনজনদের অনবরত কান্নার আওয়াজ শুনছি বিছনায় দুর্বল শরীর টাকে ছড়িয়ে দিয়ে।

হাজারো চিন্তা ঘুরাফেরা করছে,নিজের খামতি গুলো যেন মাথার মধ্যে চাড়া দিয়ে উঠছে।এই সবের মাঝে হটাৎ একটা খুব প্রিয় মধুর স্বর কানের মধ্যে আসলো,আমার মনের মধ্যে আনন্দের ঢেউ আছিড়িয়ে পড়লো,পাশে শত জনের কান্নার আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে গেল।এইতো আবার একবার আসলো সেই মধুময় স্বর হ্যাঁ আবার স্পষ্ট শুনতে পেলাম বাবু আই আমার কোলে ফিরে আই কত দিন ধরে তোর অপেক্ষায় কোল খালি করে রয়েছি।আমি আনন্দের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম অনুভব করলাম দু চোখের কোনে থেকে জল গড়িয়ে পড়ল দুই গালের উপর দিয়ে।কান্নার আওয়াজ গুলো আরো একটু বেড়ে গেলো সঙ্গে কোরানের আয়াত পাঠও।

আমি অপেক্ষায় আছি আবার আমার মায়ের সেই মধুময় স্বর শুনিবার জন্য।আবার আসলো ফিরে আরো একটা স্বর,কিন্তু এটা ছিল একটু দুস্টুমি মাখানো ভরসার হাত বাড়িয়ে দোয়ার স্বর।শুনতে পেলাম যেন বললো আমার হাত দুটোকে আর কত দিন খালি রাখবি তুই আই একটু মিচকে হাসির স্বরে বললো আর হ্যাঁ তোর মৌ এখানে অপেক্ষা করছে।

দীর্ঘ শ্বাসের সাথে বলে উঠলাম মৌ….বুকটা ঝাকিয়ে উঁচু হয়ে উঠলো।অনুভব করলাম পাশে বসে থাকা আমার অধাঙ্গিনী মেরি চোখ বন্ধ করে যার হাতের উপর ভরসা করে জীবন কে সপে দিয়েছিলাম তার সেই হাত খানা বুকের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলতে লাগলো।ঝাঁপসা চোখে দেখলাম জীবনের কঠিন পথ গুলোকে সরল করে দেওয়া আমার আব্বু হাত বাড়িয়ে দিয়ে আমায় ডাকছে।আমি দুর্বল শরীর টিকে হেঁচকা টান দিলাম কিন্তু সে একটু কুঁকরিয়ে উঠে পড়ে গেলো।

হেঁচকা টানে দু চোখ খুলতেই দেখলাম আমার প্রাণবন্ধু মেরি বিরামহীন ভাবে কেঁদে চলেছে আমার হাতটাকে জড়িয়ে ধরে আছে ওজে আমায় যেতে দিতে রাজি নই।দুই চোখ কে বেশিক্ষন খুলে রাখতে পারলাম না।বন্ধ হবার ঠিক আগে ভয়ে বুকটা ধড়পড় করে উঠলো কে যেন এক অজানা কেউ আমায় বললো তুমি এত অস্থির হয়ো না,সময়ের আগে ও না সময়ের পরে ও না।

ব্যাস এইটুকুই শুনতে পেলাম।কিছুক্ষন সব কিছু চুপচাপ হয়ে পড়লো,চুপিসারে ঠাট্টা মেশানো ভালোবাসাময় নরম সুরের শান্ত শব্দ আসলো কানে শুনতে পেলাম ওই আমার ভীতুবীর,স্বপ্ন রাজ অনেক অপেক্ষা করিয়েছো আজ এসো স্বপ্নকে পূরণ করবার জন্য তোমার ম…..।ঢং করে উঠলো বেজে জীবনের ঘন্টার শেষ আওয়াজ টা,ছিঁড়ে গেল ছিন্ন ভিন্ন দুর্বল দোলনার রশিটা।