৪ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে চলবে মোবাইল টাওয়ার | |

৪ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে চলবে মোবাইল টাওয়ার

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে চারটি কোম্পানি দেশে টেলিকম সেবা দেয়ার জন্য টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স হাতে পেল। বৃহস্পতিবার টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ লাইসেন্স হস্তান্তর করেন

লাইসেন্স পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো- ইডটকো বাংলাদেশ, টিএএসসি সামিট টাওয়ারস, কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ ও এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম।

লাইসেন্স হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইডটকো বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল চৌধুরী, টিএএসসি সামিট টাওয়ারসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরিফ আল ইসলাম, এবি হাইটেক কনসোর্টিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান মোল্লা এবং কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান করিম লাইসেন্স নেন।

মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি টাওয়ারের অনিয়ন্ত্রিত সংখ্যা, ভূমি ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাবসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় নিয়ে এই লাইসেন্স দিয়েছে বিটিআরসি।

এই চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইডটকো বাংলাদেশের স্থানীয় অংশীদার গ্রিনকর টাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড; বিদেশি অংশীদার হিসেবে আছে আজিয়াটা বারহাদ গ্রুপের একক মালিকানাধীন টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো সেবা প্রদানকারী সাবসিডিয়ারি ইডটকো গ্রুপ।

টিএএসসি সামিট টাওয়ারের স্থানীয় অংশীদার হল সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড, আর বিদেশি অংশীদার হিসেবে আছে টিএএসসি টাওয়ার এবং গ্লোবাল হোল্ডিং করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেড।

কীর্তনখোলা টাওয়ার বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইএসওএন টাওয়ার বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেড) স্থানীয় অংশীদার কনফিডেন্স টাওয়ার গোল্ডিং লিমিটেড ; বিদেশি অংশীদার ইসিপি টাওয়ার সিঙ্গাপুর লিমিটেড।

এবি হাইটেক কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের স্থানীয় অংশীদার এডিএন টেলিকম, এবি হাইটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জেডএন এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, সেনার্জি লজিস্টিকস লিমিটেড, অরেঞ্জ ডিজিটাল লিমিটেড। আর বিদেশি অংশীদার হিসেবে আছে চায়না কমিউনিকেশন সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং চ্যাংসু ফেনগফ্যান পাওয়ার ইকুইপমেন্ট কো লিমিটেড।

গাইড লাইন অনুযায়ী, টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্সের ফলে মোবাইল টাওয়ার লাইসেন্স রোল আউটের উপর ভিত্তি করে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো কোনো নতুন টাওয়ার স্থাপন করতে পারবে না। এছাড়া এক অপারেটর আরেক অপারেটরের কাছে আর টাওয়ার ভাড়া দিতে পারবে না। কিন্তু লাইসেন্স পাওয়া টাওয়ার কোম্পানির কাছে তাদের টাওয়ার বিক্রি করতে পারবে।

লাইসেন্স প্রাপ্তির প্রথম বছরে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশের সব বিভাগীয় শহরে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে। দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার সেবা প্রদান করতে হবে।

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্সের জন্য ২৫ কোটি টাকা দিয়ে এ লাইসেন্স নিতে হবে, বার্ষিক নবায়ন ফি থাকবে ৫ কোটি টাকা এবং ২য় বছর থেকে বিটিআরসির সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি হবে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ হারে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে জমা দিতে হবে ১ শতাংশ হারে। লাইসেন্সের মেয়াদ কাল ১৫ বছর।

প্রসঙ্গত, দেশে টাওয়ার শেয়ারিং সেবা দেওয়ার জন্য টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স পেতে গত জুনে আটটি প্রতিষ্ঠান বিটিআরসির কাছে আবেদন করে। এসব আবেদন মূল্যায়নে গঠিত ১৫ সদস্যের কমিটি মূল্যায়ন শেষে প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নম্বর দেয়। আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিটির মূল্যায়নে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া চার প্রতিষ্ঠানকে টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স প্রদানের জন্য সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের সুপারিশক্রমে গত ১৪ জুলাই চার প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে লাইসেন্স প্রদানের পূর্বানুমোদন পাওয়া যায় এবং ১৬ জুলাই টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স প্রদানের লক্ষ্যে অনুমোদিত চারটি প্রতিষ্ঠানকে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়। যদিও এই টাওয়ার ব্যবসা