পাটের পর এবার ধইঞ্চার জীবনরহস্য উন্মোচন | |

পাটের পর এবার ধইঞ্চার জীবনরহস্য উন্মোচন

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা এবার ধইঞ্চার জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এডিপি রিভিউ মিটিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় আরো জানানো হয়, এর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের জুনে জাতীয় সংসদে এ সাফল্যের ঘোষণা দেন। বিজ্ঞানী অধ্যাপক মাকসুদুল আলমের হাত ধরে শুরু হওয়া জিনোম গবেষণাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। অধ্যাপক মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে এ প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা ২০১২ সালে পাটসহ বিশ্বের ৫০০টিরও বেশি উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর একটি ছত্রাক এবং ২০১৩ সালে দেশি পাটের জীবন নকশা উন্মোচন করেন। অল্প সময়ের মধ্যে বিজ্ঞানীরা তোষা ও দেশি পাটের উচ্চ-ফলনশীল ও রোগ প্রতিরোধী চারটি নতুন লাইন উদ্ভাবন করেন। এর মধ্যে আগাম বপন উপযোগী, ১০০ দিনে কর্তনযোগ্য, উন্নততর আঁশযুক্ত এবং বর্তমানে সর্বাধিক চাষকৃত জাতের চাইতেও ২০ শতাংশ বেশি ফলনশীল তোষা পাটের একটি লাইন ‘রবি-১’ এবছরই জাত হিসাবে অবমুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। এ জাত প্রচলনের ফলে বিদেশ থেকে বছরে যে প্রায় ছয় হাজার টন পাট বীজ আমদানি করতে হয় তা ক্রমান্বয়ে বন্ধ হবে।

ধইঞ্চার জিনোম গবেষণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ফসল উত্পাদনে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো। বায়ুমণ্ডলে থাকা ৭৬ ভাগ নাইট্রোজেন প্রচলিত ফসল সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না; কিন্তু দেশে প্রাচীনকাল হতে সবুজ সার হিসাবে ব্যবহূত ধইঞ্চার শিকড় ও কাণ্ডে এক ধরনের নডিউল বা গুটি তৈরি হয় যাতে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সঞ্চয়পূর্বক গাছকে সরবরাহ করে। ধইঞ্চার এ বৈশিষ্ট্য অন্যান্য ফসলে প্রয়োগের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় এবং উন্মোচন করা হয় ধইঞ্চার জীবন নকশা।

প্রায় ১ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন বেস পেয়ার জিনোম আকারের দেশি ধইঞ্চার প্রায় ৪৯ হাজারটি জিন শনাক্ত করে অধিকাংশ জিনের কার্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বর্তমানে ধইঞ্চার আঁশের মানোন্নয়নসহ প্রায়োগিক গবেষণা চলমান রয়েছে। ইতিপূর্বে সম্পন্নকৃত জিনোম গবেষণার ফলাফল বিএমসি জিনোমিক্স ও নেচার প্ল্যান্টের মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালে প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এ গবেষণার ফলাফলও অনুরূপ জার্নালে প্রকাশের পাশাপাশি মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের কার্যক্রম চলছে।