জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের | |

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জ্বালানির (তেল, গ্যাস ও কয়লা) দর গড়ে ৩৩ ভাগ বেড়েছে।  চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭২ ডলারে ঠেকেছে।  আগামী বছর এই দর আরেকটু বেড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।  গতকাল প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক’ শীর্ষক ত্রৈমাসিক পূর্বাভাস প্রতিবেদনে এমনটি উল্লেখ করা হয়েছে।  এতে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা পণ্য বাজারে ঝাঁকুনি তৈরি করেছে।
সার্বিক বিবেচনায় পণ্যমূল্য কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।  এপ্রিলের প্রতিবেদনে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল সেটি আরও ১৩ শতাংশ বাড়িয়ে অক্টোবরে প্রতিবেদন হালনাগাদ করা হয়েছে।
মূলত ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন হ্রাস পাওয়া এবং ইরানে নতুন করে মার্কিন অবরোধের ফলে সাম্প্রতিক তেলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অন্যদিকে এশিয়া ও ইউরোপে কয়লা ও গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে কয়লা ও গ্যাসের দামও বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের মতো এবছরও কৃষিপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  তবে আগামী বছর গড়ে ২ শতাংশ বাড়তে পারে।  সেই সঙ্গে সারেরও দর ২ শতাংশ বাড়তে পারে।  জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন খরচ, সার উত্পাদন খরচসহ আনুষঙ্গিক খরচ বৃদ্ধি পেলে কৃষি পণ্যের দরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চীন-মার্কিন বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ধাতুর চাহিদা কমে গেছে। বিশ্বে ধাতব পদার্থের অর্ধেক চাহিদা হলো চীনে।  এই বাণিজ্য উত্তেজনায় বিশ্বে ধাতব পণ্যের চাহিদা প্রায় ১০ ভাগ কমে গেছে।  বাণিজ্য নিয়ে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে শুধু পণ্যের দামই বাড়ছে না, বিশ্ববাজারে ভ্যালু-চেইন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  এতে করে বিশ্ববাণিজ্যের গতি কমে যাচ্ছে।  এর প্রভাব পড়ছে কৃষি পণ্যেও।
চীনের পাল্টা শুল্কের কারণে মার্কিন সয়াবিনসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছে চীন।  অথচ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সয়াবিনের ভোক্তা হলো চীন।  তবে এর অন্যদিকও রয়েছে।  ব্রাজিলের সয়াবিনের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটি ইতোমধ্যে সয়াবিনের দাম বাড়িয়েছে।  তবে সবমিলিয়ে বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনায় কৃষিপণ্যের চাহিদা বাড়ার লক্ষণ নেই।  একবছরের ব্যবধানে শস্যের দামও প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে।  এ ধরনের বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনার ফলে বিশ্বে পণ্য বাজারে চাহিদা কমে যাবে।  ফলে দামও কমে আসবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, রৌপ্যের মতো মূল্যবান ধাতুর দর ২০১৬ সালের তুলনায় বর্তমানে সর্বনিম্নে রয়েছে।  প্লাটিনামের দর কমেছে প্রায় ১০ ভাগ।  গত তিন মাসে স্বর্ণের দাম কমেছে প্রায় ৭ ভাগ।  মূলত চীন ও ভারতে সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়।  মূল্যবান ধাতুর মূল্য আগামী বছর আরও এক শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী এবছর শেষ নাগাদ খাদ্যের দাম গড়ে ৩.১ শতাংশ কমবে।  ২০১৯ সালে এটি ২.৯ ভাগ কমবে।  এবছর বিশ্বব্যাপী কাঁচামালের দাম দেড় শতাংশ হারে কমবে।  সামনের বছরও এই হারে কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।