মি. বিনকে মিস করবে বিশ্ববাসী | |

মি. বিনকে মিস করবে বিশ্ববাসী

কোটি কোটি মানুষকে হাসানো জনপ্রিয় মি. বিনের চরিত্রটি মিস করবে বিশ্ববাসী। ইতোমধ্যে অবসর নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রোয়ান অ্যাটকিনসন। এ তথ্য জানিয়েছে ডেইলি মেইল।

১৪ সিরিজের এই চরিত্রটি সৃষ্টি করেন বিখ্যাত কমেডিয়ান ও পুরস্কার বিজয়ী লেখক রিচার্ড কার্টিস। এর শেষ পর্ব সম্প্রচার করা হয় ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর। সিরিজটি দুইটি ফিল্ম এবং একটি অ্যানিমেটেড ব্যঙ্গচিত্র স্পিন-অফ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করে।

কমেডিয়ান গ্রাহাম নরটন সঞ্চালিত টকশো অনুষ্ঠান ‘দ্য গ্রাহাম নরটন শোতে অ্যাটকিনসন বলেন, ‘তিনি সম্ভবত আর মি. বিন চরিত্রে ফিরে আসছেন না। কারণ, তিনি মনে করেন, এ চরিত্রের জন্য যা যা করণীয় ছিল, তার সবই করেছেন তিনি।’

৬৩ বছর বয়সী এই অভিনেতা আরও বলেন, ‘আপনি যা পারেন, তার সবই যখন আপনি করে ফেলেন, তখন একটা বিষয় এসে দাঁড়ায়। আমার ক্ষেত্রেও ঠিক তা-ই হয়েছে। তাই আমার মনে হয় না, সে (মি. বিন চরিত্র) আবার ফিরে আসবে।’

প্রসঙ্গত, মিস্টার বিন একটি ব্রিটিশ ১৪টি পর্ব বৈশিষ্ট্য হাস্যরস টেলিভিশন ধারাবাহিক নাটক। এতে রোয়ান অ্যাটকিনসন প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন। রোয়ান অ্যাটকিনসন, তার দুই জন সহকর্মী রবিন দ্রিসকল এবং রিচার্ড কুরটিসের সাথে একে তৈরি করেন। এর একটি পর্ব বেন এলটনও লিখেছেন।

এটি প্রথম সম্প্রচার করা হয়, ১লা জানুয়ারি ১৯৯০ সালের আইটিভি-তে এবং এর শেষ পর্ব সম্প্রচার করা হয়, ১৫ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে যার শিরোনাম ছিল ‘হেয়ার বাই মিস্টার বিন অফ লন্ডন।’ গোলাপ ড’ওর সহ, অনেক সংখ্যক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও পায়। বিশ্বের ২০০টি দেশে অনুষ্ঠান বিক্রি করা হয়েছে, এবং দুইটি ফিল্ম এবং একটি অ্যানিমেটেড ব্যঙ্গচিত্র স্পিন-অফ তৈরিতে অনুপ্রাণিত করেছে।

রোয়ান সেবাস্টিয়ান অ্যাটকিনসন একজন ব্রিটিশ লেখক, অভিনেতা এবং কমেডিয়ান। তিনি সুপরিচিত মিস্টার বিন, সিটকম ব্লাকাডার এবং নট দ্য নাইন ও’ক্লক নিউস ব্যঙ্গরচনা স্কেচ শো জন্য। তাকে ব্রিটিশ ৫০ জন কৌতুক অভিনেতাদের এক হিসেবে পর্যবেক্ষকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং ২০০৫ সালে একটি সহযোগী কমেডিয়ানের ভোটে প্রথম ৫০ জন ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।

১৯৫৫ সালের ৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের নিউক্যাসলে জন্মগ্রহণ করেন এই ইংলিশ অভিনেতা, কমেডিয়ান এবং নাট্যকার। তার পুরো নাম রোয়ান সেবাস্টিয়ান অ্যাটকিনসন। ডাক নাম রো। তার বাবার নাম এরিক অ্যাটকিনসন এবং মায়ের নাম এলা মে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মি. বিন।

ছোটবেলা থেকেই রোয়ান অ্যাটকিনসন ছিলেন বেশ হাসিখুশি একজন মানুষ। কিন্তু কথা খুব কম বলতেন। যেটা তার অভিনয়ে এখন দেখা যায়। রোয়ান অ্যাটকিনসন ডারহামের ক্যাথেড্রাল স্কুলে পড়তেন। সেখানে একটি ফিল্ম সোসাইটি ছিল। সেই ফিল্ম সোসাইটির প্রধান বিষয় ছিল হাসির ও শিশুতোষ বিষয়ক বিভিন্ন সিনেমা দেখানো। ১২ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের চোখে টেলিভিশন দেখা হয়ে ওঠেনি রোয়ান অ্যাটকিনসনের।

স্কুলে যখন চার্লি চ্যাপলিনসহ আরও যারা কমেডি অভিনেতাদের মুভিগুলো দেখতেন এবং নিজের অজান্তেই তাদের নকল করা শুরু করেন। এরপর এক সময় মঞ্চের বেকস্টেজে কাজ করা শুরু করেন। বেকস্টেজ থেকে চলে আসেন মূল মঞ্চে। মঞ্চে রোয়ান অ্যাটকিনসন এর অভিনয় দেখে তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে অভিনয়কে সিরিয়াসভাবে নেওয়ার পরামর্শ দেয়।

কিন্তু পড়াশোনার ক্ষেত্রে রোয়ান অ্যাটকিনসন ছিলেন সিরিয়াস। কেননা পড়াশোনায় তিনি খুব ভালো ছিলেন। তাই পড়াশোনাটাকেই সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে অভিনয় করা কিংবা কমেডিয়ান হওয়া কোনোটিই তার লক্ষ্য ছিল না। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়াকালীন সময়ে রিচার্ড কার্টিসের সাথে পরিচয় হয় মি. বিনের। রিচার্ড কার্টিস ছিলেন একজন নাট্যকার ও গীতিনাট্য অভিনেতা।

রিচার্ড সাধারণত কমেডি চরিত্রে অভিনয় করতেন। রিচার্ড কার্টিস ও রোয়ান অ্যাটকিনসন দুজনে মিলে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে তোলেন ‘অক্সফোর্ড নাট্যশালা’। রিচার্ড কার্টিসের সঙ্গে নাটক লেখাও শুরু করেন। সেইসঙ্গে কমেডি নাটকে অভিনয়। রিচার্ড কার্টিসের সঙ্গে একসাথে রোয়ান অ্যাটকিনসন বিবিসি রেডিও থ্রিতে দ্য অ্যাটকিনসন পিপল নামের একটি স্যাটারিক্যাল ইন্টারভিউ-ধর্মী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতেন।

বর্তমান সময়ে মি. বিন তার অভিনীত মুভি ও টিভি অনুষ্ঠান গুলোর মাধ্যমে জনপ্রিয় হলেও শুরুর দিকে কমেডি বই লিখে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন মি. বিন। ১৯৭৯ সালে তার লেখা স্কেচ কমেডি শো ‘নট দ্যা নাইট’ ও ‘ক্লোক নিউজ’ নামের বইয়ের মাধ্যমে পাঠক হৃদয়ে বেশ ভালোভাবে জায়গা করে নেন রোয়ান অ্যাটকিনসন। বইটি এতটাই জনপ্রিয়তা লাভ করে যে, বেস্ট সেলিং এর তকমাটা নিজের করে নেয়।

এখানেই শেষ নয়। এই বইটি ব্রিটিশ একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ও আন্তর্জাতিক এমি অ্যাওয়ার্ডও জয় করে নেয়। পরবর্তীতে এই বই থেকে টিভি কমিক অনুষ্ঠান তৈরি করা হয় এবং তাতে অভিনয় করেন স্বয়ং রোয়ান অ্যাটকিনসন। প্রথমে লেখনি দিয়ে জয় করেছেন একাধিক পুরস্কার এবার অভিনয় দিয়েও জয় করলেন একাধিক পুরস্কার। এই টিভি কমিক অনুষ্ঠানে অভিনয় করে রোয়ান অ্যাটকিনসন জয় করেন ব্রিটিশ একাডেমি অ্যাওয়ার্ড ও বিবিসি বর্ষসেরা ব্যক্তিত্বের পুরস্কার। এই সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৮০ সালের সেরা কমেডিয়ান হিসেবে নির্বাচিত হন রোয়ান অ্যাটকিনসন।