ফুলবাড়ীতে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি | |

ফুলবাড়ীতে আমনের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মুখে হাসি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এ বছর চাষীরা শ্যালো মেশিন ও বিভিন্ন ধরণের সেচযন্ত্রের পানি কিনে বর্ষা মৌসুমেও রোপা আমনের চারা রোপন করেছে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা না মিললেও চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় পরীক্ষামূলক আধুনিক জাত ও উন্নতমানের বীজ উৎপাদন করায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের দেখা দিয়েছে। চাষিরা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে রোপা আমন ধান আবাদ করার পরেও ধান ঘরে তোলায় আনন্দের সাগরে ভাসছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের কৃষকরা যুগের পর যুগ ধরে আমন মৌসুমে স্বর্ণা, ব্রি ধান ৪৯, ব্রি ধান, ৫২, বিয়ার ১১ ধান বীজ জমিতে চাষ করে বিঘা প্রতি ১৫ থেকে ১৭ মন ধান ঘরে তুলেন । তবে এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কৃষি অফিস ৬ প্রকার উন্নতমানের নতুন ধান বীজ কৃষকরাও এই প্রথম জমিতে চারা রোপন করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে কুষকরা ধান মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। প্রতি বিঘা ২০ থেকে ২২ মন ধান কৃষকরা ঘরে তুলছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও রংপুর ধান গবেষণা কেন্দ্র থেকে এ বছর কৃষকদের মাঝে ৬ প্রকার নতুন জাতের ব্রি ধান ৬২, ৭১, ৭২, ৭৫, ৮৭ ও বীনা ১৭ বীজের আর্বিভাব ঘটিয়ে উপজেলায় চমক সৃষ্টি করেছে। চাষীরা এই প্রথম কৃষি উপজেলা অফিসের সহযোগিতায় নতুন জাতের ধান বীজ চাষ করে প্রথমবারেই সফলতা পেয়েছেন। তাই নতুন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ব্রি ধান ৬২ কৃষকরা ১৫ হেক্টর, ৭১- ৭ একর, ৭২-৪ একর, ৭৫-১ একর, ৮৭- ১ বিঘা ও বীনা ১৭-৬ একর, এর মধ্যে ব্রি ধান ৭১ ও ৬২ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে এবং বলে জানিছেন বলে জানান কৃষি অফিস। চলতি আমন মৌসুমে এ উপজেলায় নতুন জাতসহ মোট ১১ হাজার ৮শ ৪২ হেক্টর জমিতে।

শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের রসুন শিমুলবাড়ী গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান (৫৫)জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় এই প্রথম নতুন জাতের ব্রি ধান-৭১ পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। এ বছর বৃষ্টিপাত না থাকায় সেচ দিয়ে এ জমিতে চারা রোপন করা হয়েছে। সময় মতো জমিতে পরিচর্যা ও সার, পানি সঠিক ভাবে দেওয়ায় বাম্পার ফলন হয়েছে। ব্রি ধান ৭১ বীজের ভালো ফলন হওয়ায় ধান শুকানোর পরেও বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২২ মন ধান হয়েছে। আর আগাম ধান গোলায় তুলতে পেরে মনটা তার খুব খুশী।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, এলাকায় নতুন জাতের ফলন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। কৃষকেরা এখন অনেক সচেতন। এ অঞ্চলের কৃষকদের খাদ্যাভাব দুর করতে এই প্রথম কৃষকদের মাঝে ৬ প্রকার উন্নতমানের নতুন জাতের ব্রি ধান ৬২, ৭১, ৭২, ৭৫, ৮৭ ও বীনা ১৭ বীজ পরীক্ষামূলকভাবে দেওয়া হয়েছে। কৃষকরাও এ সব নতুন জাতের ধান বীজ দিয়ে সফলতা পেয়েছেন। এ উপজেলা নতুন জাতের ২৭ টি প্রদর্শনীর ধানের বাম্পার হওয়ায় কৃষকদের মাঝে হাসি ফুঠেছে। কৃষকরা এখন অল্প খরচে বেশি লাভবান হয় এমন আগাম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

তিনি আরও জানান,স্বর্ণা, ব্রি ধান ৪৯, ব্রি ধান, ৫২, বিআর ১১ ধান ঘরে তোলার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই এই নতুন জাতের ধান কৃষকরা আগেই ঘরে তোলেন। মানুষের চাহিদার পাশাপাশি বিশেষ করে গো-খাদ্যের চাহিদা পুরুন হয়। কৃষকরা খর গুলো বিক্রি করে ভাল দাম পায়। ফলে আগামীতেও এই বীজে কুষকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।