ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টিটলি’ | |

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টিটলি’

সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে খুলনা ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টিটলি’। ঘূর্ণিঝড়টি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। ফলে সেটি মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০১ কি.মি. দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস থেকে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সোমবার (৮ অক্টোবর) রাতের দিকে এ সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে ।

এ বিষয়ে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘দক্ষিণ পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরের সুষ্পষ্ট লঘুচাপটি আরও পশ্চিম উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে মধ্য বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও জোরদার হয়ে আগামী ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টার মধ্যে গভীর নিম্নচাপ, ৩৪ থেকে ৪২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় এবং আগামী বৃহস্পতিবার নাগাদ (১১ অক্টোবর) মধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। নিম্নচাপটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের খুলনার যে কোনো স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।’

বর্তমানে এটি মোংলা সমুদ্রবন্দর হতে ৯০১ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন নিম্নচাপটির কেন্দ্রের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার, যা দমকা হাওয়াসহ ঝড়ো হাওয়া আকারে ৬৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিম্নচাপটি বর্তমানে মোংলা সমুদ্রবন্দর হতে ৯০১ কিলোমিটার দক্ষিণ দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। নিম্নচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলে আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর উত্তর বঙ্গপোসাগর উত্তাল থাকতে পারে এবং উপকূলীয় এলাকাজুড়ে ৭৫ থেকে ১৬৫ কি.মি. বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।’

এদিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ঘূর্ণিঝড় ‘টিটলি’ নামটি পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নাম। ইউএন ইকনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিউনিকেশন এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক (ইএসসিএপি) প্যানেল নির্ধারিত নামগুলো ব্যবহৃত হয়ে থাকে। পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ে পর্যায়ক্রমে অন্য নামগুলো ব্যবহৃত হবে।