কথার বরখেলাপ করিনি: আইনমন্ত্রী

ডিজিটাল নিরাপত্তার আইনের নয়টি ধারা সংশোধনে সম্পাদক পরিষদকে দেয়া কথার ‘বরখেলাপ’ করেননি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বলেছেন, ‘আমার কথা রাখার সময় কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। আমি কথার বরখেলাপও করিনি।’

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী একথা বলেন। ‘গুণীজন সম্মাননা ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ দিতে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে কসবা উপজেলা সমিতি।

এর আগে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নয়টি ধারা নিয়ে আপত্তির বিষয়ে তিন মন্ত্রী সম্পাদক পরিষদকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন বলে মন্তব্য করেন পরিষদের সদস্য দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। সোমবার আইনটির নয়টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধনেরও ডাক দিয়েছে তারা।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল সম্পাদক পরিষদসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন। তাদের আপত্তির সুরাহা না করেই গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংসদে ওই আইন পাস করা হয়।

সম্পাদক পরিষদের কর্মসূচির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এইটুকু বলতে পারি। ওনারা (সম্পাদক পরিষদ) যেটা বলেছেন, আমরা যখন তাদের সঙ্গে গত ৩০ তারিখ বৈঠক করি, সেই বৈঠকে তারা বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন।’

‘এ আইনের ৯টি ধারা সম্পর্কে তাদের (সম্পাদক পরিষদ) বক্তব্য আছে বলেও জানান। সেই আলোচনায় বলেছি, এ আইনের ২১ ধারা সম্পর্কে তাদের সঙ্গে আলাপ করেই দেওয়া হয়েছে। এই ২১ ধারার ব্যাপারে আমরা কোনও কথা শুনবো না। আমি যতটুকু চোখে দেখেছি তারাও তাতে রাজি হয়েছিলেন। ২১ ধারা সম্পর্কে কথা বলবেন না।’

বাকি আটটি ধারা সম্পর্কেও সম্পাদক পরিষদের সঙ্গে কথা হয়েছিল জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনটা যেহেতু সংসদে পাস হয়ে গেছে। এইটা নিয়ে কথা বলার আগে বা এমন কিছু করার আগে ওনাদের কথাগুলো মন্ত্রী পরিষদে উত্থাপিত করতে হবে। সেই কথা আমি এখনও মন্ত্রী পরিষদের উত্থাপন করিনি।’

‘আমি শুনেছি ওনারা (সম্পাদক পরিষদ) নাকি বলেছেন আমরা কথা রাখিনি। আমার কথা রাখার সময় কিন্তু এখনো শেষ হয়নি। আমি ওনাদের এইটুকু বলতে পারবো আমি কথার বরখেলাপ করিনি। কারণ আমার সময় শেষ হয়নি।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হওয়ার পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিল সম্পাদক পরিষদ। তবে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অনুরোধে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।

পরে সরকারের তিন মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠকে বলা হয়, আইনটি নিয়ে সম্পাদকদের আপত্তি মন্ত্রিসভায় আলোচনা করা হবে।

এরপর মন্ত্রিসভার দুইটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে সম্পাদক পরিষদের আপত্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

সম্পাদক পরিষদ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারাগুলো গণতান্ত্রিক অধিকার, সুশাসন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করছে।

আগামী ২১ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া চলতি দশম জাতীয় সংসদের ২৩তম অধিবেশনে এই ধারাগুলো সংশোধনের দাবি জানাচ্ছে দেশের গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী এই পরিষদ।