শিশু আকিফা হত্যার সেই বাসচালক গ্রেফতার | |

শিশু আকিফা হত্যার সেই বাসচালক গ্রেফতার

অবশেষে কুষ্টিয়ার বহুল আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আকিফা হত্যা মামলায় গঞ্জেরাজ বাসচালক মহিত মিয়া ওরফে খোকনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বুধবার রাতে ফরিদপুর জেলার সদর থানার বঙ্গেশ্বরী এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব। মহিত মিয়া ওরফে খোকন(৩৫) চাঞ্চল্যকর শিশু আকিফা হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

বৃহস্পতিবার র‌্যাব-১২, সিপিসি-১ কুষ্টিয়ার কোম্পানি কমান্ডার অ্যাডিশনাল এসপি মুহাইমেনুল রশিদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত রোববার চাঞ্চল্যকর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু আকিফার মামলায় গঞ্জেরাজ পরিবহনের মালিক জয়নাল আবেদিনকে ফরিদপুর থেকে আটক করেছিলেন র‌্যাব সদস্যরা।

সোমবার সকালে মালিকের পক্ষের আইনজীবীরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এমএম মোর্শেদের আদালতে জামিন আবেদন করেন। একই সময়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন ড্রাইভার মহিত মিয়া ওরফে খোকন। পরে আদালত দুজনকে জামিন দেন।

জামিনের পরের দিন মঙ্গলবার শিশু আকিফার মামলায় ৩০২ ধারা সংযোজনের জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুমন কাদেরী। কুষ্টিয়া জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এমএম মোর্শেদ আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এতে আকিফার মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে এজাহারভুক্ত হয়।

একই দিন জিআরও শাখার উপপরিদর্শক আজাহার আলী জামিনপ্রাপ্ত দুই আসামি বাসের মালিক ও চালকের জামিন বাতিলের আরেকটি আবেদন করেন। ওই আবেদনটিও মঞ্জুর করে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

সেই গ্রেফতারি পরোয়ানায় এবার হত্যা মামলায় বাসচালক মহিত মিয়া ওরফে খোকনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

উল্লেখ্য, গত ২৮ আগস্ট রাজশাহী থেকে ফরিদপুরের উদ্দশ্যে ছেড়ে আসা গঞ্জেরাজ পরিবহনের একটি বাস শহরের চৌড়হাঁস মোড়ের কাউন্টারে এসে থামে। সে সময় থেমে থাকা বাসের সামনে দিয়ে এক বছরের শিশুকন্যা আকিফাকে কোলে নিয়ে রাস্তা পারা হচ্ছিলেন মা রিনা বেগম। হঠাৎ কোনো হর্নো ছাড়াই চালক খোকন বাসটি চালিয়ে দেন।

বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে আহত হয় শিশুকন্যা আকিফা। বাসের ধাক্কায় রিনা বেগমও আহত হন। এরই মধ্যে বাসটি দ্রুত পালিয়ে যায়।

২৯ আগস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যায় শিশু আকিফা। পরে এ দুর্ঘটনার সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আকিফার বাবা হারুন উর রশীদ গত ৩০ আগস্ট এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানায় বাসচালক ও মালিকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ তা ৩০৪ ধারায় নথিভুক্ত করে।