পরিচয় মিলেছে গুলিবিদ্ধ সেই তিন লাশের | |

পরিচয় মিলেছে গুলিবিদ্ধ সেই তিন লাশের

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত তিন যুবকের পরিচয় মিলেছে। স্বজনরা বলছেন, গত বুধবার পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ডিবির সদস্য পরিচয়ে ওই তিনজনকে যাত্রীবাহী বাস থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন তারা।

তিনজনই রাজধানী ঢাকায় থাকতেন। শুক্রবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পূর্বাচল উপশহরের আলমপুরের ১১ নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

যুবকেরা হলেন, রাজধানীর মহাখালীর শহীদুল্লাহর ছেলে মো. সোহাগ (৩২), মুগদা এলাকার মো. আবদুল মান্নানের ছেলে শিমুল (৩০) ও একই এলাকার আবদুল ওয়াহাব মিয়ার ছেলে নূর হোসেন ওরফে বাবু (৩০)। এর মধ্যে শিমুল ও বাবু সম্পর্কে ভায়রা ভাই।

সকালে লাশ উদ্ধারের পর তাৎক্ষণিকভাবে নিহত যুবকদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানায় পুলিশ।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বিডি২৪লাইভকে জানান, আলমপুরের ১১ নম্বর ব্রিজ এলাকায় সড়কের পাশে তিন যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই এলাকা থেকে তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। নিহত তিন যুবকের পরনে প্যান্ট, শার্ট ও গেঞ্জি ছিল।

খবর পেয়ে নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা রূপগঞ্জ থানায় ছুটে আসেন। তারা লাশ শনাক্ত করেন।

নিহত সোহাগের ভাই মো. শাওনের তথ্যমতে, গত বুধবার বেড়াতে গিয়ে তার বড় ভাই নিখোঁজ হন। এর পর থেকে তার কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফেসবুকে ছবি দেখে রূপগঞ্জ থানায় এসে লাশ শনাক্ত করেন। তার ভাই ফাস্ট ফুড বার্গার ও স্যাটেলাইট ক্যাবল নেটওয়ার্কের ব্যবসা করতেন বলে তিনি জানান।

নিহত শিমুলের স্ত্রী আয়েশা আক্তার আন্নি জানান, গত বুধবার বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাস থেকে তার স্বামীসহ অন্যদের সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। দুটি মাইক্রোবাস ও একটি গাড়িতে করে তাদের তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে শিমুল নিখোঁজ ছিলেন। তার মুঠোফোন বন্ধ ছিল। খবর পেয়ে থানায় এসে তিনি স্বামীর লাশ শনাক্ত করেন। তার স্বামী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন বলে জানান তিনি। তাদের এক মেয়ে সন্তান রয়েছে।

পরে ওসি মনিরুজ্জামান মনির জানান, নিহত যুবকদের স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করেছেন। তবে ওই যুবকদের বিরুদ্ধে কোন মামলা রয়েছে কি না, তা জানাতে পারেননি তিনি।