নতুন জার্সিতে টাইগারদের একাদশ ও পজিশন | |

নতুন জার্সিতে টাইগারদের একাদশ ও পজিশন

রাত পোহালেই পর্দা উঠবে এশিয়াকাপের। ক্রিকেট ভক্তরা নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে বাংলাদেশের একাদশ নিয়ে। কেমন একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে। মূল একাদশে কোন এগারো জন মাঠে নামবে। এটি মাশরাফির সম্ভবত ‘শেষ’ এশিয়া কাপ হতে যাচ্ছে। তাই এবারের এই সিরিজকে স্মরণীয় করে রাখতে দলের প্রত্যকে খেলোয়াড় উজ্জীবিত। এশিয়া কাপের জন্য বিসিবি ঘোষণা করেছে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ একটি দল।

অভিজ্ঞ ও তারুণদের নিয়ে গড়া এই দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেশ শক্তপ্রতিপক্ষ। শেষ সাত দিনের ওয়ানডে সিরিজের মাত্র দুটি শ্রীলঙ্কা নিজেদের করতে সক্ষম হয়েছে। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচকে অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ বলেছে, ‘শ্রীলঙ্কার বোলিং বনাম বাংলাদেশের ব্যাটিং’ লড়াই। যদিও দু’দলেই রয়েছে ইঞ্জুরির থাবা। সেই ইঞ্জুরিকে জয় করে কোন দল শেষ হাসি হাসবে সেটা দেখা যাবে ম্যাচ শেষে।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ বর্তমানে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশের কাছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রত্যেকেই পরাজয় উপহার পেয়েছে। প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সেরা একাদশে তামিম ইকবালের সঙ্গী হবে লিটন কুমার দাস। তিন নম্বর স্থানে সাকিব আল হাসান, চার ও পাঁচে মুশফিকুর রহিম মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। ছয় নম্বর স্থানে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সাত ও আট নম্বরে মোহম্মদ মিথুন ও মেহেদি হাসান মিরাজ। নয় নম্বর থেকে যথাক্রকে মাশরাফি বিন মোর্তাজা, রুবেল হোসেন এবং মুস্তাফিজুর রহমান।

বিসিবির একটি সূত্র থেকে জানা যায়, সম্ভাব্য এই ব্যাটিং একাদশ নিয়েই বাংলাদেশ মাঠে নামছে। বোলিং বিভাগে গরমের কথা চিন্তা করে পেসারদের তুলনায় স্পিনারদের বেশি দেখা যাবে। সে ক্ষেত্রে পেসারদের ওভার সংক্ষিপ্ত হতে পারে।

মোসাদ্দেকের বোলিংটা কাজে আসবে শ্রীলংকার সাথে। ৪ থেকে ৫ ওভার বল করে একটি ব্রেক থ্রু পেতে অধিনায়ক তাকে ব্যবহার করতে পারেন।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পঞ্চপাণ্ডবে ফর্ম রয়েছে সপ্তআকাশে। আগে কোন সিরিজের আগে এই ৫ জনকেই এমন দুর্দান্ত ফর্মে পাওয়া যায়নি। সেই সাথে মুস্তাফিজ আছে দারুণ ছন্দে। উইন্ডিজ সিরিজে নিজের হারানো ফর্ম ফিরে পেয়েছেন এই কাটার মাস্টার।

খুব গোছালো একটা দল নিয়ে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার। তা এখন স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। একবারে দলে অফফর্মে থাকা কেউ নেই। আগের দলগুলোতে সম্পূর্ণ অফ ফর্মে থাকা কখনো সৌম্য, কখনো বিজয়, কখনো সাব্বির থাকতেন। যেটা অধিনায়ক কিংবা ম্যানেজমেন্টের জন্য স্বস্তিদায়ক হতো না।

ম্যাশের শেষ এশিয়া কাপ এটি। তাই দলও চাইবে তাকে একটা এশিয়া কাপ উপহার দিতে। চলতি ফর্মের কারণে প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার থেকে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ।

দল হিসেবে বাংলাদেশ এগিয়ে শ্রীলংকা থেকে। বাংলাদেশ যখন জয় দিয়ে এশিয়া কাপ শুরু করছে তখন লঙ্কানরা হার নিয়ে এবারের এশিয়া কাপ শুরু করছে। আফ্রিকার সাথে সিরিজ হার, সঙ্গে রয়েছে দলের দুই ভরসা আখিলা ধনঞ্জয়া এবং দিনেশ চান্দিমালের না থাকাটা কিছুটা আত্নবিশ্বাসে ফাটল ধরাবেই লঙ্কানদের।

ধনঞ্জয়াও ছিল বড় একটা কাটা এশিয়া কাপের দল গুলোর জন্য! তার সাম্প্রতিক ফর্ম তাকে ভয় পাওয়াতে যথেষ্ট। তবে শ্রীলংকাকে আশা দেখাতে পারে থিসারা পেরেরা! ক্যারিয়ার সেরা ফর্ম আছেন। শ্রীলংকার হয়ে এ বছর সর্বোচ্চ ১৮ টি উইকেট নিয়েছেন এই বোলার। ৪০ গড় এবং ১০০ এর মতো স্ট্রাইকরেট নিয়ে আছেন ব্যাটসম্যানদের তালিকাতেও দ্বিতীয়তে! যে টুকু ভয় এই পেরেরাতে। তাকে আটকাতে পারলে জয় সহজই হবে বাংলাদেশের জন্য।

কুশল মেন্ডিস, বাংলাদেশকে পেলে যার ব্যাট হেসে উঠে। চরম অফ ফর্ম নিয়ে বাংলাদেশকে সামনে পেয়ে জ্বলে উঠেন মেন্ডিস। সর্বশেষ আফ্রিকার সাথে টেস্টে, ওডিআই, টি২০ মিলিয়ে ১০ ইনিংসে ১৭০ রানও করতে পারে নি! তাও ভয়ের একটা কারণ আছে। তার পূর্বের রেকর্ড এর জন্য। ১০ ইনিংসের ক্ষত এক ইনিংসে না পুষিয়ে দেয়। তবে বাংলাদেশ তাদের জমাট বোলিং, শক্ত ব্যাটিং অর্ডার এবং নির্ভরযোগ্য পঞ্চপান্ডব নিয়ে এগিয়েই থাকবে।

টসে বাংলাদেশ জয় পেয়ে শুরুতে বোলিং করতে চাইবে। কিন্তু টার্গেট দিতেও বাংলাদেশে পিছিয়ে থাকবে না। আবার আমিরাতে এই মাঠে ২৬০ থেকে ২৮০ বেশ শক্ত লক্ষ্য। স্লো পিজে ব্যাটসম্যানেরা নিজেদের মানিয়ে নিতে বেশ অসুবিধার সম্মুখীন হবে।

তবুও এই ম্যাচে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে এবং জয় দিয়েই এশিয়া কাপ শুরু করবে এমনটাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

বাংলাদেশে সম্ভাব্য একাদশ : তামিম ইকবাল, লিটন কুমার, সাকিব আল হাসান , মুশফিকুর রহিম , মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদুল্লাহ্ রিয়াদ, মোহম্মদ মিথুন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মোর্তাজা (অধিনায়ক), মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেইন।