উদ্বোধনের অপেক্ষায় গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন | |

উদ্বোধনের অপেক্ষায় গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন

গোপালগঞ্জে নবনির্মিত ৪৪ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু উদ্বোধনের পালা। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের যেকোনো দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ রেল লাইনের উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।

তবে কবে নাগাদ এই লাইনে রেল চলাচল শুরু হবে তার প্রতীক্ষায় দিন গুণছেন গোপালগঞ্জবাসী।

জানা যায়, দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলা গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দিকে এই রেল লাইনের কাজ শুরু হয়। দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ও তমা গ্রুপ ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শুরু করে। ইতোমধ্যে তারা নির্মাণ শেষ করেছে। এখন কোথাও কোনো ত্রুটি রয়েছে কিনা তা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর বয়রা পর্যন্ত ৪৪ কিলোমিটার রেল লাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপের প্রজেক্ট ম্যানেজার এসএম নজরুল ও ম্যাক্স গ্রুপের প্রকোশলী এখলাসুর রহমান বলেন, এই প্রকল্পের জন্য সর্বমোট ১২শ ৫৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রকল্পের লাইন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তে ডেকোরেশনের কাজ।

এ প্রকল্পের আওতায় গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা থেকে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর বয়রা পর্যন্ত মোট ৪৪ কিলোমিটার রেল লাইন, মধুমতি নদীর উপর একটি রেল সেতু, ৪৩টি কার্লভাট, এবং ৬টি রেল স্টেশন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এর সঙ্গে স্টেশনে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে।

নিম্নাঞ্চল হিসাবে খ্যাত গোপালগঞ্জ জেলা সদরে রেল লাইন নির্মাণ হওয়ায় গোপালগঞ্জবাসী এখন স্বল্প খরচে এবং নিরাপদ ভ্রমণ করতে পারবেন। সেই সাথে প্রসার ঘটবে ব্যবসা বাণিজ্যেরও।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাড়ারগাতি গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক পবিত্র বিশ্বাস বলেন, রেল লাইনটি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে। গোপালগঞ্জে বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রচুর পরিমানে সবজি ও কৃষিপণ্য উৎপাদন হয় থাকে। এখন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল শুধু এলাকায় নয় রেলের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে কম খরচে পরিবহন করতে পারবেন।

একই কথা জানালেন, রঘুনাথপুর গ্রামের শলিল বিশ্বাস, স্বপন বিশ্বাস, বেদগ্রামের নীতিশ রায়, রাজিব আহম্মেদ রাজু, সাইফুল ইসলাম, মোল্লা রনি হোসেন কালু, নিউটন মোল্লা, শহরের সাইফুল্লাহ রাজু, নাজমুল ইসলাম, অসীম রায়সহ অনেকে।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য রেল লাইন, পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এর ফলে এ এলাকা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। দেশবাসী কম খরচে জাতির জনকের সমাধিতে আসতে পারবেন। গোপালগঞ্জের মানুষও দেশের বিভিন্ন স্থানে কম খরচে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার বলেন, গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের সঙ্গে সঙ্গে এ অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে এ প্রকল্পের মাধ্যমে।

এ মাসের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেল লাইনের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জবাসীর স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে।