নির্বাচনে সেনা রাখা নিয়ে যা বলল ৪ কমিশনার | |

নির্বাচনে সেনা রাখা নিয়ে যা বলল ৪ কমিশনার

আর কয়েকমাস পর অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল দিয়ে ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করছে ইসি। এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়ন করা হবে কি না এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত এখনও নেইনি কমিশন। তবে এ নির্বাচনে সেনাবাহিনী থাকবে কি না ব্যক্তিগত ভাবে ইসির চার কমিশনার তাদের মত দিয়েছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সেনাবাহিনী মোতায়নের দাবি জানিয়ে আসছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো তো নির্বাচনের অনেক দিন বাকি। আমাদেরকে পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখতে দেন। নির্বাচনের আগে অবশ্যই একটা সিদ্ধান্ত নেব। যদি প্রয়োজন হয়, অবশ্যই সেনাবাহিনী নিয়োগ দেব। সেনাবাহিনী মোতায়েন করার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে মত দেব।’

সংসদ নির্বাচনের আগে যে সময় আছে, তাতে নির্বাচনী সামগ্রী কেনাকাটাসহ যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী সামগ্রী কেনাকাটার জন্য কমিশনাররা দায়িত্বপ্রাপ্ত না। এটার জন্য সচিবকে ধরতে হবে। যদি সচিবালয় ব্যর্থ হয়, নিশ্চিত থাকবেন আমরা কোনো রকম ছাড় দেব না সচিবকে। ব্যর্থ হলে জবাবদিহিতা নয় শুধু, আরও অনেক কিছু করতে হবে।’

সংসদ নির্বাচনে সেনা রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘অতীতে কিভাবে কোন পরিস্থিতিতে সেনা মোতায়েন হয়েছে, তা নিয়ে বলতে চাই না। আমি একাদশ সংসদ নির্বাচনের কথা বলছি। সময় হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিই বলে দেবে, কিভাবে সেনা মোতায়েন হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মত দিব সংসদ নির্বাচনে ভাল ভাবে সেনা রাখার জন্য।’

নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্যই আমি শপথ নিয়েছি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করব। সংসদ নির্বাচনের সময় রয়েছে, তাই সময় হলে সেনার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারব না। তবে সংসদ নির্বাচন অনেক বড় নির্বাচন, কমিশন সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে মত দিলে আমিও তাদের সঙ্গে একমত থাকব।’

কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন চলতি বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হবে। এখন হাতে সময় আছে সেনা রাখার বিষয়ে আমরা কোন বৈঠক করিনি। তবে আমার ব্যক্তিগত মত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা থাকবে না। সংসদ নির্বাচনে সেনা রাখা উচিত।’

সংসদ নির্বাচনে সেনা রাখার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সাথে আলাপ আলোচনার পর আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। কমিশন চাইলে আমার আপত্তি নেই। তবে কি ফরমেটে সংসদ নির্বাচনে সেনা থাকবে এটা নিয়ে আলোচনার বিষয় আছে। জাতীয় নির্বাচন যেহেতু এ কারণে সেনা রাখা যেতে পারে।’

আসনভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে ৩০০ আসনের জন্য পৃথকভাবে আসনভিত্তীক ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। ইসি সচিবালয় এই ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করছে। কয়েকদিনের মধ্যেই এগুলো নির্বাচনী এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এরপরে দাবি-আপত্তি গ্রহণ করা হবে।

ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪০ হাজারের মতো ভোটকেন্দ্র হতে পারে। ৩০০ সংসদীয় আসনের সমতল এলাকায় ৩৯ হাজার ৩৮৭টি এবং পার্বত্য এলাকায় ৬১৩টি ভোট কেন্দ্র থাকছে। ভোটকক্ষ হবে প্রায় দুই লাখ। ভোটকেন্দ্রের নীতিমালা অনুযায়ী, গড়ে আড়াই হাজার ভোটারের জন্য একটি করে ভোটকেন্দ্র এবং গড়ে ৬০০ পুরুষ ভোটারের জন্য ও ৫০০ নারী ভোটারের জন্য একটি করে ভোট কক্ষ নির্ধারণ করতে হবে।

গত ৫ আগস্ট ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্রের বিষয়ে আগামী ১৯ আগষ্ট পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জানানো যাবে। ৩০ আগষ্ট এসব দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তি করে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে।