ঘুরে আসুন অনিন্দ্য সুন্দর গুলিয়াখালী থেকে | |

ঘুরে আসুন অনিন্দ্য সুন্দর গুলিয়াখালী থেকে

“গুলিয়াখালী” নামটা শুনে অনেকে নাক সিটকাতে পারেন, কিন্তু আপনার ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে যদি আপনি অন্তত একবার অনিন্দ্য সুন্দর এই সমুদ্র সৈকতটি ঘুরে আসেন। গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত যেনো অপার্থিব শান্তিময় এক নৈস্বর্গিক সৈকত যা আপনাকে মুগ্ধতার আবেশে আটকে রাখবে অনেক দিন।

প্রচলিত সী বিচ বলতে আমরা যেমনটা বুঝি গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত তার থেকে অনেকটাই আলাদা। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত এই সৈকতে গেলে দেখতে পাবেন সবুজ খোপ খোপ পাড় যা গুলিয়াখালীর ট্রেডমার্ক দৃশ্য হিসেবে এখন অনলাইনে খ্যাতি পেয়েছে পাশাপাশি পাবেন ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট, বালুকাতট এবং বোনাস হিসেবে জেলেদের নৌকায় করে বীচ সংলগ্ন খাল দিয়ে সমুদ্রের খানিকটা ভিতরে ঘুরে আসার সূযোগ। পাশাপাশি সবুজ সৈকতে বসে কাটানো বিকাল আপনাকে এনে দেবে অন্যরকম মুগ্ধকর এক অভিজ্ঞতা।

হঠাৎ করেই একদিন বন্ধু নাহিদ বললো চল চন্দ্রনাথ পাহড়ে যাই। সীতাকুন্ড চন্দ্রনাথ পাহাড় উচ্চতার চট্টগ্রাম জেলার সবচেয়ে উঁচু পাহাড়। ঘুরাঘুরির নেশা এমন এক নেশা সুযোগ পেলে কোনো কিছুই হাতছাড়া করতে মন চায়না, তাই নাহিদের এক কথায় রাজী হয়ে গেলাম, দেখতে দেখতে গ্রুপটাও ২ জন থেকে ৭ জনের হয়ে গেলো, ট্যুরে যুক্ত হলো আরো কিছু দুষ্ট ভাই ব্রাদার।আরেক বন্ধু সাব্বির ১দিন আগে ঘুরে আসলেও, সেও লোভ সামলাতে পারলো না। তাই সাব্বিরও যুক্ত হলো আমাদের সাথে। ঠিক হলো শুধু চন্দ্রনাথ না, সময় পেলে ঘুরে আসবো গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত’ও। নির্ধারিত দিনে চট্টগ্রামগামী বাসে চেপে পৌঁছে যাই সীতাকুন্ড বাজার, সেখান থেকে ভাড়ার সিএনজিতে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গোড়া তারপর শুরু হলো চন্দ্রনাথ চূড়ার উদ্দেশ্যে ট্রেকিং। প্রায় দুই ঘন্টা ট্রেকিং করে উঠে যাই চন্দ্রনাথ চূড়ায়, চূড়ায় উঠার পথে পাহাড়ী দৃশ্যসমূহ শুধু আপনাকে মুগ্ধই নয়, যে কাউকে পাহাড়ে যাবার জন্য বার বার আকর্ষিত করবে।

চন্দ্রনাথ থেকে নেমে আবার সীতাকুন্ড বাজার পৌঁছে দুপুরের খাবার শেষ করে ভাড়ার সিএনজি করে রওয়ানা হলাম গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে। তখনো জানতামনা কি এক অসম্ভব সুন্দর সৈকত অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। সীতাকুন্ড বাজার থেকে সিএনজি ট্যাক্সিতে করে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের পথ, গুলিয়াখালী বিচে নেমেই অবাক হয়ে গেলাম। প্রথমে কিছুটা বালি , তারপর সবুজ পাড় আবার পাশেই ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। ম্যানগ্রোভ ফরেস্টের মাঝেই বয়ে গেছে ছোট খাল যা গিয়ে মিশেছে সমুদ্রে। সেটা যেন সৃষ্টিকর্তাকে চেনার অপার সুযোগ।