আসুন আমরা পশু কোরবানি দেয়ার মধ্যে দিয়ে মনের পশুত্ব কোরবানি দেই | |

আসুন আমরা পশু কোরবানি দেয়ার মধ্যে দিয়ে মনের পশুত্ব কোরবানি দেই

প্রতিচ্ছবি পরিবারের পক্ষ থেকে সকল পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ‘ঈদ মোবারক’ 

রাত পোহালেই পবিত্র ঈদ উল আযহা। কোরবানির ঈদ। এই ঈদ সবার জন্য নিয়ে আসবে আনন্দ। প্রতিটি মুসলমানের ঘরে ঘরে ফুটবে খুশির ফুল। আমাদের সকল পাঠক ও শুভান্যুধায়ীদের  জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ।

ঈদ এলেই একটি কথা বার বার মনে পড়ে। আমরা শৈশবে পড়েছিলাম ‘ আজ ঈদ তাই মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ। পথের ধুলোবালিতে বসে একটি বালক কাঁদছিল। তাঁর গায়ে একটি ছেড়া শতছিন্ন মলিন জামা। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ছেলেটিকে রাস্তা থেকে তুলে এনে নতুন জামা কিনে দিলেন। ছেলেটির মুখে হাসি ফুটলো। ’ আমরা আমাদের প্রিয় নবীর শিক্ষা কি মনে রেখেছি ? অবস্থা দৃস্টে মনে হয় আমরা নবীর শিক্ষা ভুলে যেতে বসেছি।

এতিমদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো মনে রাখিনি। এখনো এমন বৈষম্য চোখে পড়ে যে , এক বাড়ীতে ঈদের দিনে পোলাও কোর্মা , কয়েক পদের সেমাই রানা হয়েছে। খাওয়া দাওয়ার ধুম লেগেছে। কিন্তু পাশের টিনের ঘরটিতে আট সদস্যের পরিবারের জন্য আধা কেজি সেমাই রান্না হয়েছে। তাও দুধ ছাড়া।পরিবারের ছোট সদস্যরা বাটিতে করে একটু একটু সেমাই খাচ্ছে। বড়রা সেদিকে চেয়ে আছে। কিন্তু খেতে পারছেনা। শুকনো সেমাই ওদের গলা দিয়ে নামতে চাইছেনা।

এ দৃশ্য দেখে পিতা মাতার বুক ফাঁটে। নিজের ছেলে মেয়েদের মুখে একবেলা একটু দুধ সেমাই তুলে দিতে পারছেন না। পোলাও মাংসতো দুরের কথা। অথচ পাশের বাড়ীতে অঢেল খাবার নস্ট হচ্ছে। এমন প্রতিবেশীর প্রতি আল্লাহর দ্বিনের নবী বলেছেন , ‘তোমরা ঈদের দিনে নিজেরা ভাল খাবার খাও , প্রতিবেশীকেও খাওয়াও। এতিমদের হক পুরণ কর। ’

মহান ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে বিশ্ব মুসলিমের দ্বারে আবারো উপস্থিত হয়েছে পবিত্র ঈদ-উল আযহা। আল্লাহ তার বান্দাকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করেন তার প্রতি আনুগত্য ও কর্তব্য পালনের মাধ্যমে। ঈদ মুসলমানের আনন্দ উৎসবের সাথেই ইবাদতের তাৎপর্যকে সমুন্নত করে।

বিশ্ব মুসলমানের সার্বজনীন আনন্দ উৎসব হিসেবে দুটো ঈদই গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ-উল আযাহায় পশু কোরবানির মাধ্যমে মহান সৃষ্টিকর্তা বান্দার আত্মত্যাগ ও বনের নয় মনের পশুকে কোরবানি করার জন্য মহা-নিয়ামত হিসেবে দান করেছেন। কোরবানির অর্থ ‘নৈকট্য’ লাভ করাকেই বুঝায় এবং যার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় তাকেই কোরবানি বলা হয়। ঈদ-উল আযহায় ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করাই সকল মুসলিমের উদ্দেশ্য।