বিদ্যুতের সঞ্চালনও বেসরকারি খাতে দিতে চান প্রতিমন্ত্রী

বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি সরবরাহ বা সঞ্চালনও বেসরকারি খাতে দেয়ার পক্ষে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এটা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়ন পর্যালোচনা বিষয়ক জাতীয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এই মত জানান প্রতিমন্ত্রী।

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতিদিন ২০ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ পাচ্ছে দেশ। দেশের ৯২ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছানো হয়েছে। বাকি ৮ শতাংশ গ্রামে বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম চলমান।’

চরম বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতেও ছোটবড় ৬০টিরও বেশি কেন্দ্র স্থাপন করিয়েছে। ১৯৯৬ সালেই ক্ষমতায় এসে এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল দলটি। সেটি এবার আরও বাড়ানো হয়েছে।

আর এই সিদ্ধান্তে এই খাতে অচলাবস্থা কাটিয়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন অনেক সহনীয়। ২০২৪ সালের মধ্যে সরকার নিবরচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার ঘোষণাও দিয়েছে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুতের উৎপাদন তিন হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি ছিল। নয় বছরে প্রকৃত উৎপাদন ১১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। আর বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা এখন ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনও বহুলাংশে নির্ভরশীল ছোট ছোট কুইকরেন্টাল কেন্দ্রের ওপর। কয়লাভিত্তিক এবং ডুয়েলফুয়েল বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসলে এই কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।

সরকার জানাচ্ছে এখন চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদনের সক্ষমতা আছে। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার মতো সক্ষমতা নেই সঞ্চালন লাইনের দুর্বলতার জন্য। এই বিষয়েও সরকার কাজ করছে।

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিদ্যুৎ খাতের বিতরণ ও সঞ্চালন বেসকারি উদ্যোক্তাদের দেওয়া হলে এটা ধ্বংস হয়ে যাবে বলে অনেক মহল সমালোচনা করেছে। অথচ সরকার চ্যালেঞ্জটা নিয়ে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে সক্ষমতা অর্জন করতে চাইছে।’

‘২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে দাঁড়াবে। সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। আর ২০২৪ সাল নাগাদ সরকারের লক্ষ্য ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন।’

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য আমাদের প্রযুক্তিগত ও অর্থায়নের চ্যালেঞ্জ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বেসরকারি এবং বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। দেশের বাজার এখন বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত।’

‘বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্ব নিতে ভারত, জাপান, চায়না, সিঙ্গাপুর, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র এ খাতে যৌথভাবে কাজ করতে মুখিয়ে আছে। তারা এটা নিয়ে খুব আগ্রহ দেখাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে বক্তব্য রাখেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুরও। তিনি বলেন, ‘এসডিজি অর্জন সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এসডিজি অর্জনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তবেই নির্ধারিত ১৭টি লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে।’

এর আগে গত দুই দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষক মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়ন পর্যালোচনা করা হয়।

এসব পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর, দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নিয়ে এসডিজির ওপর ১৭টি বিষয়ের ওপর নিজ নিজ দপ্তরের উন্নয়ন ফিরিস্তি, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রতিবন্ধকতার চিত্র তুলে ধরেন।

তিন দিনব্যাপী অধিবেশনের শেষ দিন সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ।

এসডিজি হলো জাতিসংঘের গ্রহণ করা একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা। ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সম্মেলনে এটি গৃহীত হয়। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটা দাগে ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশগুলো অঙ্গীকার করেছে।