বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্লোগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ | |

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের স্লোগান ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপরই মহাকাশে যাত্রা হবে বাংলাদেশের। এখন শুধুমাত্র এই স্বপ্নযাত্রার অপেক্ষা। ইতোমধ্যে কাউন্ট-ডাউনও শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১০ মে) বিকাল ৪টা ১২ মিনিটে মহাকাশে ডানা মেলবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টা ১২ মিনিট থেকে ৪টা ২২ মিনিটে এটির যাত্রা হবে মহাকাশে।

এদিকে ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা পৌঁছেছেন ৩০ সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতা তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করা হবে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে শত শত বাংলাদেশি এখন ফ্লোরিডায় যাচ্ছেন। তারা চান বাংলাদেশের মহাকাশে যাত্রার সাক্ষী হয়ে থাকতে।

ফ্লোরিডা থেকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বাংলায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানটি লেখা রয়েছে। এই স্লোগান নিয়েই কক্ষপথের দিকে ছুটবে এটি।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ৯ মে থেকে কেনেডি স্পেস সেন্টারের পার্শ্ববর্তী কোকোয়া বিচের অধিকাংশ হোটেলে রুম খালি নেই। অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সগুলোতেও আসন মিলছে না। এছাড়া সন্ধ্যার পর থেকে ফ্লোরিডার আকাশজুড়ে আতশবাজির ঝলকানি দেখা যাবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে ফ্যালকন-৯ কক্ষপথের দিকে ছুটবে কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে। এখান থেকেই ১৯৬৯ সালে চন্দ্রাভিযানে রওনা হয়েছিল অ্যাপোলো-১১। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের তালিস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে।

নাসার সিডিউল অনুযায়ী স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা কেনেডি স্পেস সেন্টারে প্রবেশ করতে পারবেন। শুধু সরকারের প্রতিনিধি দলের সদস্য ও গণমাধ্যম কর্মীরা খুব কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পাবেন। তবে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্যও কেনেডি স্পেস সেন্টারে আলাদা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯০২ কোটি টাকা। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৫৪৪ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট এক হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা বিডার্স ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে ব্যয় সংকুলান হয়েছে। এদিকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে প্রাথমিক এবং রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দ্বিতীয় গ্রাউন্ড স্টেশন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি দেশে ব্যবহারের জন্য এবং বাকি ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হবে। এছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট।