ফর্সা হবার ক্রিম লাগালে হবে ক্যানসার! | |

ফর্সা হবার ক্রিম লাগালে হবে ক্যানসার!

মানুষ সুন্দরের পূজারি। তাই তারা সবসময় সুন্দর হবার চেষ্টায় মত্ত থাকে। সেই চেষ্টাতেই মানুষ একেক সময় বিভিন্ন ব্যর্থ চেষ্টায় পড়ে থাকে। কিন্তু এতে আপনার ত্বকের কতটা ক্ষতি হচ্ছে, তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? আসুন জেনে নেয়া যাক বিজ্ঞান কি বলে-

২০১৩ সালে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তরফ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। তাতে লেখা ছিল বাজারে বিক্রি হওয়া একাধিক ফর্সা হওয়ার ক্রিমে অনেক সময়ই মার্কারি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যা থেকে যে কোনও সময় বিষক্রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেই সঙ্গে চুলকানি, স্কিন টোন খারাপ হয়ে যাওয়া এবং সারা মুখে কালো দাগ হওয়ার মতো সমস্যাও মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তাই এবার থেকে যে কোনও বিউটি প্রডাক্ট কেনার আগে একবার দেখে নেবেন যে তাতে মার্কারি রয়েছে কিনা। না হলে কিন্তু বেজায় বিপদ পরতে পারেন!

যে সব ফর্সা হওয়ার ক্রিমে ২ শতাংশের বেশি হাইড্রোকুইনান থাকে, সেইসব ক্রিম টানা ৩ মাস মুখে লাগালে মুখ ফর্সা হওয়ার পরিবর্তে কালো হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে মুখের পাশপাশি সারা শরীরে হাইপারপিগমেন্টটেশনের মতো ত্বকের রোগ হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়।

সুস্থ ত্বকের নিজের ক্ষত সারিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। এই কাজটি স্কিন চারটি ধাপে করে থাকে। যেমন- হেমোস্টেসিস (ব্লাড ক্লটিং), ইনফ্লেমেশন, প্রলিফেরেশন এবং মেটুরেশন। দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষতিকর ক্যামিকেল দেওয়া ফর্সা হওয়ার ক্রিম মুখে লাগালে ত্বকের ক্ষত সারানোর ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নানাবিধ ত্বকের রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

২০০৩ সালে ব্রিটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজিতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে যারা ব্রণ, ডার্মাটাইটিস এবং একজিমার মতো ত্বকের রোগে ভুগছেন তারা যদি ফর্সা হওয়ার ক্রিম ব্যবহার করেন, তাহলে এই সব রোগের প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পায়। ফলে মুখের সৌন্দর্য বাড়ার পরিবর্তে চোখে পরার মতো কমে যেতে শুরু করে।

সূত্রঃ বোল্ড স্কাই।