প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস সোমবার | |

প্রথম জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস সোমবার

প্রথমবারের মতো জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর।
সোমবার দিনভর নানা আয়োজনের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলোর কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে দেশব্যাপী এই দিবস উদযাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশীষ কুমার সরকার।

রোববার ঢাকার সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিবছর ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে তা পরিপত্র আকারে জারি হয়।

তিনি বলেন, “সারা বছর আমরা যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করি, এই একটি দিবসকে ঘিরে আমরা সেসব মূল্যায়ন করব। একইসঙ্গে গ্রন্থাগারের পাঠকদের সঙ্গে মতবিনিময় করব। তারা পাঠাগারের কাছে কেমন সুবিধা চাইছেন, তা আমরা শুনব। লাইব্রেরি সেক্টরের মানুষদের উদ্দীপিত করতে এ দিবসটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”

সোমবার সকাল ৯টায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করবে জাতীয় গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর। এর উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

বিকালে জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে দিবসের তাৎপর্য বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান রয়েছে। সেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি সচিব ইব্রাহীম হোসেন খান।

পরে শিল্পকলা একাডেমির পরিবেশনায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের কাছে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ১৯৫৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি। পরে ১৯৭৮ সালে ৬ জানুয়ারি গণগ্রন্থাগার ভবনের উদ্বোধন করা হয়, ১৯৮৩ সালে তা অধিদপ্তরের স্বীকৃতি পায়। জেলা, উপজেলা পর্যায়ে এখন মোট গণগ্রন্থাগারের সংখ্যা ৭১টি।

অধিদপ্তরে তথ্য অনুযায়ী, সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারের বইয়ের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার। ৫৮টি জেলায় মোট বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১৭ লাখ ৩৭ হাজার। সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে প্রতিদিন ৩৩৬০ পাঠক আসেন, অন্যদিকে জেলা পাঠাগারগুলো দৈনিক ব্যবহার করছেন প্রায় ২ লাখ ৭৬ হাজার পাঠক।