৬৫ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ: তালিকা দিলেন অর্থমন্ত্রী

প্রতিচ্ছবি রিপোর্টঃ গত ১০ বছরে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নি এমন মোট এক হাজার ৯৫৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি জানান, এরা ব্যাংক থেকে মোট ৬৫ হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন।

এই ১০ বছরের মধ্যে নয় বছর ধরেই ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ।

বুধবার জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেয়া সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তালিকা প্রকাশ করেন।

খেলাপি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকায় প্রথম ২০টির মধ্যে  রয়েছে, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স, মেরিন ভেজিটেবল অয়েল, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেম, ম্যাক্স স্পিনিং মিলস, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আনোয়ারা স্পিনিং মিলস, চৌধুরী নিটওয়ারস, সিদ্দিক ট্রেডার্স, ইয়াসির এন্টার প্রাইজ, আলাপ্পা কম্পোজিট টাওয়ালস, লিজেন্ড হোল্ডিংস, হলমার্ক ফ্যাশন্স, মুন্নু ফেব্রিক্স, ম্যাক ইন্টারন্যাশনাল, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিক্স, শাহারিশ কম্পোজিট টাওয়ালস, কেয়া ইয়ার্ন মিলস, সালেহ কার্পেট মিলস, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রোসেসিং, হেল্পিং রিসোর্স, বিসমিল্লাহ টাওয়ালস।

গত কয়েক বছর ধরেই লেখাপি ঋণের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি থাকলেও সম্প্রতি বেসরকারি খাতেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী নিজেও একে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছেন।

অর্থমন্ত্রী সংসদে গত ১০ বছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়া হয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার ৫০৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকা আদায় করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ৭২ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

অন্য এক সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ব্যাংকিং খাতে যেসব অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে, সেসবের প্রতিকারে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

এই প্রশ্নকে ঢালাও আখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হলমার্কের সেই ক্রাইসিস থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যাংকের সম্বন্ধে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। … ম্যানেজিং ডিরেক্টর পর্যন্ত লোকজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি, কোনো কোনো মামলায় জিতেছি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আসামি মারা গেছেন, অনেকে জেলে আছেন, কোনো কোনোটা ট্রায়ালের অপেক্ষায় আছে,  কেউ জামিন নিয়ে আছেন।

ব্যাংকি সেক্টরে অর্থ আদালত কম। একটি মাত্র আদালত আছে। আরও একটি আদালত সৃষ্টি করেছি।’

‘আমি বলেছি ব্যাংকিং সেক্টরে এখনও বেশ দুর্বলতা রয়েছে এবং সেই সব দুর্বলতা থেকে আমরা উত্তরণের চেষ্টা করছি, এটা এত সহজে হবে না। এটা সময়সাপেক্ষ।’ (আরও আসছে…)