‘পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত জ্যাকব টাওয়ার’ | |

‘পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত জ্যাকব টাওয়ার’

প্রতিচ্ছবি রিপোর্টঃ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা খুবই উজ্জল। দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাধুনিক ও সুউচ্চ জ্যাকব টাওয়ার বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

তিনি বলেন, এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনসাধারনকে এগিয়ে আসতে হবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশ নিশ্চিত করতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।

বুধবার বিকেলে ভোলার চরফ্যাশনে টিবি স্কুল মাঠে আয়োজিত সুধি সমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে রাষ্ট্রপতি একথা বলেন। এর আগে দুপুরে এখানে রাষ্ট্রপতি ২২৫ ফুট উচ্চতার ওয়াচ টাওয়ার ‘জ্যাকব টাওয়ার’ উদ্বোধন করেন।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। পৌর মেয়র বাদল কৃষ্ণ দেবনাথের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা-২ আসনের এমপি আলী আজম মুকুল, চরফ্যাশন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ দুলাল বক্তব্য রাখেন। সঞ্চালনায় ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মনির আহমেদ শুভ্র।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের পর্যাপ্ত বিকাশ ঘটেছে। সেই চিন্তাধারা থেকে আপনাদের নেতা জ্যাকবের উদ্যোগ এবং চরফ্যাশন পৌরসভার তত্ত্বাবধানে এই টাওয়ার নির্মাণ একটি যুগান্তরকারী পদক্ষেপ। এই টাওয়ার দেশি-বিদেশি পর্যর্টকদের আকৃষ্ট করতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।

তিনি বলেন, চরফ্যাশনে অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ, বেগম রহিমা ইসলাম ডিগ্রি কলেজ, নজরুল ইসলাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজ উদ্বোধন শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তরকারী পদক্ষেপ। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এলাকার গুণগত শিক্ষা প্রসারে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। শিক্ষা একটি জাতির উন্নয়নে অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তাই দেশকে উন্নতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে হলে দেশের প্রতিটি নাগরিককে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। সরকার এ লক্ষ্যে অবকাঠামোসহ প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিনামূল্যে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বই দিচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃত্তি প্রদানসহ উৎসাহব্যঞ্জক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে। এখন দরকার গুণগত মানের শিক্ষা।

শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনারা ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলুন। একবিংশ শতাব্দি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বর্তমান প্রজন্মকে এমন ভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে স্থানীয় এবং আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে তারা যে কোনো প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে পারে।

উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নয়ন কেউ কাউকে দেয় না। এটা অর্জন করতে হয়। তাই অন্যের উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের যা আছে তা নিয়ে আমাদেরও এগিয়ে যেতে হব্।ে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ছোট দেশটিতে প্রায় ১৭ কোটি লোকের বসবাস। এই বিশাল জনগোষ্ঠিকে জনসম্পদে পরিনত করতে না পারলে দেশের সব উন্নয়ন পরিকল্পনাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে এ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভাবনা খুবই উজ্জল। কিন্তু আমাদের এই সম্ভাবনা সমুহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই একবিংশ শতাব্দিতে দেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিনত করতে হলে এসব উন্নয়ন সম্ভাবনাসমুহ যথাযথ ভাবে কাজে লাগাতে হবে। আর এজন্য দরকার জনপ্রতিনিধি, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মচারী ও স্থানীয় জনগনের সমন্বিত প্রয়াস।

সরকারি কর্মচারিদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, মাঠ পর্যায়ে আপনারা জনগনের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্যে থেকে কাজ করেন। তাই আপনাদের আচার আচরণ ও দায়িত্ব পালনের ওপরই সরকারের ভাবমুর্তি, সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ভরশীল। তাই জনগনের সেবক হিসেবে যুগের চাহিদা অনুযায়ী সরকারি সেবা খাতে আপনাদের গুণগত পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারের সেবা কেন্দ্রগুলোকে জনগনের সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রে পরিনত করতে হবে। দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে সততা নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা বজায় রাখবেন এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিবেন।

সমাবেশে চরফ্যাশনকে জেলা ঘোষণা ও একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রীর দাবীর জবাবে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, চরফ্যাশন জেলা হওয়ার যোগ্য এবং এখানে সরকারি বা বে-সরকারি উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় হতেই পারে। এ বিষয়ে স্থানীয় ভাবে যেকোন উদ্যোগ নেওয়া হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা করবো।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভোলায় বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। এ গ্যাস ব্যবহার করে এখানে গ্যাসভিত্তিক ব্যাপক শিল্প কারখানা গড়ে তোলা হবে। সড়ক পথে যোগাযোগের জন্য ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ করা হবে। ভোলা হবে দ্বিতীয় সিঙ্গাপুর উল্লেখ কওে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে কাজ করছেন ভোলার চার এমপি ।

সুধি সমাবেশের আগে রাষ্ট্রপতি চরফ্যাশনে দক্ষিণ এশিয়ার সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার ‘জ্যাকব টাওয়ার’ উদ্বোধন করেন। এছাড়া বেগম রহিমা ইসলাম কলেজ, অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম কলেজ, চরফ্যাশন টিচার্স ট্রেনিং কলেজের একাডেমিক ভবন ও রসূলপুর-এওয়াজপুর মৈত্রি সেতুর ফলক উম্মোচন করেন।