For Advertisement
নেপাল-চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহত প্রায় ৭৫০, নিখোঁজ ৩ হাজার
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭৫০ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৩৪ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশিও রয়েছেন। খবর সিএনএনের।
নেপালে ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ৭৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ৩ হাজারের জনের বেশি মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বন্যায় দেশটির বিভিন্ন এলাকার সড়ক, সেতু, বসতি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এদিকে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেপালকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি আরও ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিদেশি ও নেপালি নাগরিক মিলিয়ে মোট ৭৫৩ জন পর্যটকেরও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয় রয়েছেন।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত আরও চার ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা বিশ্লেষণে সহায়তার জন্য ভারতের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল কাঠমান্ডুতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অন্যদিকে চীনে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় সময় রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চীনে নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন।
এর আগে চীনে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। পরে উদ্ধার অভিযান ও মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে পৌঁছায়। একই সময়ে নিখোঁজের সংখ্যা ৫৫৪ থেকে কমে ৫৪৬ জন হয়েছে।
গত বুধবার চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের বিশাল স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপালের রাসুয়াসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্যোগের পর নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকায় আরও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজের সংখ্যা নিরূপণের কাজও চলছে। ফলে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।
Latest
For Advertisement
- সহযোগী-সম্পাদক: হাসিনা রহমান শিপন
- সহ -সম্পাদক: রাশিকুর রহমান রিফাত
- নিউজ রুম ইনচার্জ : তাসফিয়া রহমান সিনথিয়া
Developed by WebsXplore