৩টি আমদানি চালানে কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি | |

৩টি আমদানি চালানে কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি

রাজধানীর দিলকুশার `সিটিএম জয়েন্ট ভেন্চার`, পল্টনের `বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানু. এন্ড এক্সপোর্টারস`, মিডফোর্ডের `অগ্রনি ট্রেডার্স` নামের তিন প্রতিষ্ঠানের তিন আমদানি চালানে কোটি টাকার বেশী শুল্ক ফাঁকির অনিয়ম উদঘাটন করেছে শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিটের দল।

শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিটের কমিশনার ড. মঈনুল খান নতুন সময়কে সোমবার রাত সাড়ে ৭টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, `শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিটের দল আজ (সোমবার) ঢাকার ৩ জন আমদানিকারকের ১ কোটি ১১ লাখ টাকার শুল্ককর ফাঁকি উদঘাটন করেছে।

অডিট অনুসন্ধান অনুযায়ী ঢাকার দিলকুশার সিটিএম জয়েন্ট ভেন্চার ৪ টি বিল অব এন্ট্রির মাধ্যমে ’ক্রাশড স্টোন’, এইচএসকোড ২৫১৭১০৯০, আমদানি করে। তবে এসব চালানে ৪% হারে এটিভি প্রযোজ্য হলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে এইসব চালানে সরকারের প্রায় ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকার রাজস্ব পরিহার করা হয়েছে। এসব পণ্য মালয়েশিয়া থেকে আনা হয়েছিল। চালানগুলো চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস দিয়ে খালাসকৃত বলেও জানান তিনি।`

অপরদিকে অডিট দল একইসাথে পুরানা পল্টনের আমদানিকারক বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানু. এন্ড এক্সপোর্টারস কর্তৃক আনীত হলটেন্টের চালানে অবমূল্যায়নজনিত শুল্ক ফাঁকি উদঘাটন করে। এই পণ্যের এইচএস কোড ৬৩০৬৬২৯০ এ এসআরও অনুসারে ন্যুনতম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২.৫০ ডলার প্রতি কেজি। কিন্তু আমদানিকারক এই পণ্য মাত্র ০.৬০ ডলারে খালাস নিয়েছেন। ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে ৩৫.১০ লক্ষ টাকা। ওই চালানটির বিল অব এন্ট্রি হলো সি৮০৮০৮ (০৮/০১/২০২৮)। পণ্যটি চায়না থেকে আমদানিকৃত এবং তা আইসিডি কমলাপুর দিয়ে ছাড় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, অডিট দল ঢাকার মিডফোর্ডের অগ্রনি ট্রেডার্স বিল অব এন্ট্রি সি১২৯১৯ (২৬/০৬/২০১৬) পরীক্ষা করে ১৫.৭০ লক্ষ টাকার শুল্ক ফাঁকি বের করেছে। এতে দেখা যায় আমদানিকারক ওই চালানে এইচএসকোড ৭৩২৩৯৩০০ এ স্টেইনলেসস্টিল গ্লাস এনেছে। তবে এই ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ১.২০ ডলার মূল্যে খালাস করেছে। অথচ এই পণ্যের এসআরও অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্য হচ্ছে ২.২৫ ডলার।

ফলে এই চালানে শুল্ক ফাঁকি হয়েছে ১৫.৭০ লক্ষ টাকা। পণ্য চালানটি চিন থেকে আমদানিকৃত এবং তা মোংলা কাস্টম হাউস দিয়ে খালাস হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই উদ্ঘাটিত অনিয়মগুলো প্রতিবেদন আকারে সংশ্লিষ্ট কাস্টম কমিশনারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। কাস্টমস কমিশনার প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিটের কমিশনার।