সাংবাদিকতায় অনলাইন কোর্সের সনদপত্র বিতরণ | |

সাংবাদিকতায় অনলাইন কোর্সের সনদপত্র বিতরণ

বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি) এবং একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে সাংবাদিকতা শেখার ই-লার্নিং কার্যক্রমের দুটি কোর্সের সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স অন বেসিক জার্নালিজম’ ও ‘অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স অন টেলিভিশন জার্নালিজম’ শীর্ষক দুটি কোর্সের সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক ও পিআইবির পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, পিআইবির মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর, এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি স্পেশালিষ্ট (শিক্ষা ইনোভেশন) আফজাল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুর রহমান, পিআইবির সহকারী প্রশিক্ষক নাসিমুল আহসান প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে গণমাধ্যমকর্মীদেরও ভূমিকা আছে। গণমাধ্যম এখন বিকশিত হচ্ছে। কারণ, সাংবাদিকতায় বহু ক্ষেত্র আছে। সেখানে পারদর্শিতা অর্জন করতে হবে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র আর গণমাধ্যম হাতের এপিঠ-ওপিঠ। আমরা এক কথায় বলি, গণতন্ত্র মানে কথা বলার অধিকার। কিন্তু গণতন্ত্র কার্যত আইনের শাসন। গণতন্ত্র আইনের শাসনের মধ্যে চর্চা হয়। আইনের গণ্ডি থাকে। সেই গণ্ডি থেকেই কাজ করতে হয়। গণতন্ত্রে মত প্রকাশের অধিকার আছে, তবে কারো চরিত্র হরণের অধিকার নেই।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে সব তথ্য আপনার হাতের তালুতে। প্রশাসন আপনাকে তথ্য দিতে বাধ্য। তবে আপনি এমন কিছু করতে পারবেন না, যাতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়। এক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতাও আছে। তাই সাংবাদিকদের আইন এবং সংবিধান মেনেই কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখনও অপরাধীদের পক্ষে ওকালতি করা হয় মন্তব্য করে হাসানুল হক বলেন, ভারসাম্য রক্ষার এ অপনীতি থেকে সাংবাদিকতাকে মুক্ত করতে হবে। ভাল মানুষের সাথে খারাপ মানুষকে এক পাল্লায় মাপা, কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নেত্রীকে রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে এক পাল্লায় মাপা এবং রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের এক পাল্লায় না মাপার আহ্বান জানাচ্ছি।

পিআইবির মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর বলেন, এখানে অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও শিক্ষার্থীরা এসেছেন। যারা সফলভাবে এ কোর্স সম্পন্ন করেছেন সেসব শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। এই কোর্স শুধু বাংলাদেশে নয়, বাংলা ভাষাভাষী এরকম কোর্স আর নেই। পৃথিবীর অনান্য দেশের এরকম কোর্সের তুলনায় এটি কোনো অংশেই কম নয়।

তিনি বলেন, সমাজ গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল। এই মাধ্যমের কর্মীদের তৈরি করার মাধ্যম আমাদের নেই। তাই হলুদ সাংবাদিকতার তৈরি হচ্ছে। এজন্য প্রশিক্ষণের দরকার। কারণ, শিক্ষিত সাংবাদিকরাই দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারবেন। এ কোর্সগুলোর ধারাবাহিকতা রাখার পক্ষে তিনি মত দেন।

শাহ আলমগীর বলেন, বছরে আমরা (পিআইবি) ৯৮ থেকে ১০০ কোর্সও করিয়েছি। কিন্তু প্রশিক্ষণ নেয় মাত্র ৩ হাজার জন। এরপর চিন্তা করলাম, এমন কোর্স চালু করতে চাই, যারা সাংবাদিকতায় কাজ করছেন, করতে চান, বুঝতে চান এবং সাংবাদিকতা শিখতে চান তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া যাবে। এরপর আমাদের আহ্বানে এটুআই কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসে। তারা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।

তিনি জানান, শুরুতে আমরা দুইটি কোর্সের জন্য ৬ হাজার আবেদন পেয়েছিলাম। সেখান থেকে যাছাই-বাছাই করে ২ হাজার জনকে সুযোগ দিয়েছি। এর মধ্যে ‘অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স অন বেসিক জার্নালিজম’ ও ‘অনলাইন সার্টিফিকেট কোর্স অন টেলিভিশন জার্নালিজম’ শীর্ষক দুটি কোর্স গত জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখে শেষ হয়। সেখান থেকে ৭০০ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

সভাপতির বক্তব্যে দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক ও পিআইবির পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম সারওয়ার বলেন, সাংবাদিকরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। অনেকেই কাজ করতে যেয়ে নিহত হন। তাই সাংবাদিকদের জন্য ঝুঁকি বীমা দরকার।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের জ্যেষ্ঠ এ সাংবাদিক বলেন, অকারণে কারো চরিত্র হরণ করবেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখুন, নিজেও দুর্নীতি থেকে দূরে থাকুন। যারা মফস্বল সাংবাদিকতা করছেন, তারা ইউএনও, ডিসি ও এসপিদের তাবেদারি করবেন না। অনলাইন এবং ফেসবুক ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। এখান থেকে তথ্য নিতে হলে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে নেবেন।

পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।