সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের চিন্তা নেই ইসির | |

সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের চিন্তা নেই ইসির

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। তবে প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে।

সোমবার (১৬ জুলাই) দুপুরে ইসি সচিব হেলালুদ্দিন আহম্মেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে সবজায়গায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, সেই হিসাবে আমরা নির্বাচনকে আরও অধিগ্রহণ, স্বচ্ছ ও সফলভাবে সম্পাদন করার জন্যে প্রযুক্তিটি ব্যবহার করতে যাচ্ছি।

ইতিমধ্যে রংপুরের একটি কেন্দ্রে, খুলনায় দুটি কেন্দ্রে, গাজীপুরে ৬টি কেন্দ্রে এ প্রযুক্তির ব্যবহারে সফলতা পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, আগামী ৩০ জুলাই তিন সিটি নির্বাচনের মধ্যে বরিশাল ১০টি কেন্দ্রে, রাজশাহীর দুটি কেন্দ্রে এবং সিলেটের দুটি কেন্দ্রে আমরা ইভিএম (ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করবো। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাচনে তিনটি কেন্দ্রে ব্যবহার করবো।

স্থানীয় সরকার আইনে বলা হয়েছে প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে আমরা এ প্রযুক্তিটি ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আমাদের নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত আছে আগামী দিনগুলোতে যত ধরণের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে প্রতিটি নির্বাচনে আমরা ইভিএম ব্যবহার করবো।

যদি অধিক কার্যকর ও ভালো রেজাল্ট পাই তাহলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কিছু কিছু কেন্দ্রে আমরা ইভিএম ব্যবহার করার চিন্তা করছি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কিনা এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন এখনো কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। কারণ সাধারণ নির্বাচনে আরপিএ বিষয়সহ অনেকগুলো বিষয় রয়েছে এগুলো মাথায় রেখে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে স্থানীয় সব ধরণের নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইভিএম কে জনগণের কাছে পরিচিতি লাভের জন্যে কাজ করছে ইসি উল্লেখ করে এ কর্মকর্তা বলেন, দশটি অঞ্চলে মেলা করার চিন্তা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে একটি মেলা করা হয়েছে সেখানে কিন্তু বেশ সাড়া পাওয়া গেছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবেও একটি মেলার করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি জেলাতে দুটি করে ইভিএম মেশিন পাঠানোর পরিকল্পনা আছে।

তিনি জানান, শুধু জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয় সারাবছর কিন্তু বিভিন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আমাদের প্রত্যেকটি স্থানীয় নির্বাচনে এটি ব্যবহারের চিন্তা রয়েছে। রংপুর, খুলনা ও গাজীপুরে ব্যবহার হয়েছে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একটি ইভিএম মেশিনের ব্যয় সম্পর্কে তিনি জানান, প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় হয়ে থাকে। শুধু মেশিন নয় এর সঙ্গে কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিসহ নানা বিষয় যুক্ত থাকে। প্রচলিত পদ্ধতি নাকি প্রযুক্তি ইভিএম কোনটি ব্যয় সাপেক্ষ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, যত ব্যালটপেপার কম ব্যবহার করে প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে তত ব্যয় কমে আসবে।

আগামী সংসদ নির্বচন পর্যন্ত আরপিও এর বিষয়ে কোনো সংশোধনীর পরিকল্পনা নেই ইসি’র। তবে একটি পরিকল্পনা রয়েছে তা হলো অধ্যাদেশটি ইংরেজি রয়েছে তা বাংলাতেও করার। ইংরেজি ও বাংলা দুটিতেই থাকবে।