এবার পাগলা মসজিদে ৫৪ দিনে ৮৯ লাখ টাকা জমা | |

এবার পাগলা মসজিদে ৫৪ দিনে ৮৯ লাখ টাকা জমা

কিশোরগঞ্জের শহরের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স আবারও খোলা হয়েছে। এবার দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (৭ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তিন মাস সাতদিনের ব্যবধানে এ দানবাক্স খোলা হয়।

দানবাক্স খোলার পর টাকাগুলো প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজ। বিকেলে গণনা শেষে দানের এ টাকার হিসাব পাওয়া যায়। এছাড়াও দানবাক্স থেকে সোনা, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া যায়।

টাকা গণনার কাজ তদারকি করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) উপ-সচিব তরফদার মো. আক্তার জামীল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হুছাইন, সিনিয়র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু তাহের সাঈদ বাংলানিউজকে জানান, তিন মাস পরপর মসজিদের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এবার তিন মাস সাতদিন পর খোলা হয়েছে। পরে টাকাগুলো গুনে নগদ ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা পাওয়া যায়।

তিনি জানান, এই মসজিদের যখন দানবাক্স খোলা হয়, তখন সাধারণত এক কোটি টাকার কাছাকাছি পাওয়া যায়। টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। আর যে স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে তা আগের পাওয়া স্বর্ণালঙ্কারের সঙ্গে যোগ করে সিন্দুকে রেখে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দানে পাওয়া গবাদিপশু ছাগল, হাস-মুরগি প্রতি সপ্তাহেই নির্ধারিত দিনে নিলামে বিক্রি করা হয়। সর্বশেষ ৩১ মার্চ মসজিদের দানবাক্স খুলে গণনা করে ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা পাওয়া যায় বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে আনুমানিক চার একর জায়গায় ‘পাগলা মসজিদ ইসলামী কমপ্লেক্স’ অবস্থিত। প্রায় আড়াইশ বছর আগে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইতিহাস সূত্রে জানা যায়। এই মসজিদের প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনেক কাহিনী প্রচলিত আছে, যা ভক্ত ও মুসল্লিদের আকর্ষণ করে।

ও তিন গম্বুজবিশিষ্ট পাগলা মসজিদের সুউচ্চ মিনার বহুদূর থেকে নজরে আসে। এ ছাড়া একটি এতিমখানা ও হাফেজি মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের অন্তর্ভুক্ত আছে। সম্প্রতি কমপ্লেক্সের জায়গায় একটি কবরস্থান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস রয়েছে, এখানে মানত করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। আর এ কারণেই মূলত দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে মানত করতে আসেন।

দানবাক্সে পাওয়া টাকা সাধারণত কমিটি, জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলদের পরামর্শে বিভিন্ন মসজিদে দান-খয়রাত, মাদ্রাসার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় হয়ে থাকে।