আইনজীবিদের রক্ষাকবচ? | |

আইনজীবিদের রক্ষাকবচ?

সারাদেশে বিজ্ঞ আইনজীবিগন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিনিয়ত আইনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।মানবাধিকারের সংগ্রামে আইনজীবিদের ভুমিকাই সর্বাগ্রে।সারাদিন যারা আইনের সেবা করেন,মানুষের অধিকার রক্ষায়,থাকেন ত্রস্থব্যস্থ।তাদের নিজের অধিকার নিয়ে চিন্তা করার সময় কোথায়?সরকারী কর্মচারী,কর্মকর্তা আর জুডিসিয়াল অফিসারদের রক্ষাকবচ আছে।

কিন্তু আইনজীবিদের কোন রক্ষাকবচ নেই।সরকারী কর্মকর্তা আর কর্মচারীদের রক্ষাকবচ হিসাবে রয়েছে ফৌঃ কাঃ বিঃ এর ১৯৭ ধারা।জুডিসিয়াল অফিসারদের জন্য রয়েছে জুডিসিয়াল অফিসারস প্রোটেকশন এ্যাক্ট।ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এ আইনজীবিদের কোন অবস্থান নেই।আইনজীবিদের ষ্ট্যাটাস আর দাপ্তরিক অবস্থান নিয়ে সুষ্পষ্ট কোন ব্যখ্যা কোথাও নেই।আভিধানিক অর্থে এবং মহামান্য আপীল বিভাগের জবানী মতে আইনজীবিরা দেশের প্রথম শ্রেণীর নাগরিক আর কোর্ট অফিসার।কোর্ট অফিসারের অবস্থান সম্পর্কে কোন আইনে কিছু বলা নেই।

তবে একজন কোর্ট অফিসার এর অবস্থান সম্পর্কে ৪৪ ডি,এল,আর ২১৯ (এ,ডি) তে একটু স্পর্শ করা হয়েছে।সেটাও বিজ্ঞ আইনজীবি কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট নিয়ে।বলা হয়েছে,বিজ্ঞ আইনজীবি কর্তৃক ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট কে অবহেলা করলে কনটেম্ট অব কোর্ট হবে।কিন্তু এছাড়া আর কোন দিক নির্দেশনা নেই।কিন্তু ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এ দশ বছরের অধিক প্র্যাক্টিস করেছেন এমন আইনজীবির কথাও বলা নেই।মূলতঃ আইনজীবিদের কোন রক্ষাকবচ নেই।একজন সরকারী পেয়াদা র বিরুদ্ধে মামলা করতে পূর্বানুমতি লাগে।কিন্তু একজন আইনজীবির বেলায় এমন আইন বা নিয়ম অনুপস্থিত কেন?

যুগ যুগ ধরে সবাই আইনজীবিদের ব্যবহার করে আসছে।বিপদে পড়লে আইনজীবি ছাড়া গতি নেই।আর এমনিতে আইনজীবিদের প্রোটেকশন দেবার মত কোন আইন নেই।বিচার বিভাগ স্বাধীন।বিজ্ঞ আইনজীবিগন বিচার বিভাগেরই একটা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।কিন্তু আইনজীবিদের প্রটৌকলের ক্ষেত্রে সবার এত দ্বিধা কেন?বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আর আইনজীবি সমিতি আছে আইনজীবিদের পেশাগত অসদাচরন নিয়ে বিচার করার জন্য।

কিন্তু একজন আইনজীবি যখন বর্তমান সমাজের সন্ত্রাসী মোয়াক্কেল বা বিরোধী পক্ষের সন্ত্রাসীদের আক্রমনের শিকার হন,তখন তাদের বিচার চাওয়ার মত আলাদা কোন প্রতিষ্ঠান নেই।বাংলাদেশ বার কাউন্ডিল বা আইনজীবি সমিতিতে অভিযোগ দেবারও সুযোগ নেই।তাহলে বলা যায়,মানবাধিকার রক্ষাকারীদের মানবাধিকার নেই!উন্নত বিশ্বে অবশ্য চিত্রটা ভিন্নরকম।যাই হোক,ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এ আইনজীবিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

কোর্ট অফিসার এর যথার্থ সুস্পষ্ট ব্যখ্যা সম্বলিত তাদের প্রোটেকশন এর ব্যবস্থা করতে হবে।তা না হলে আইনের শাসন প্রতিষ্টায় এ এক বড় ধরনের ব্যত্যয়।তাই বিশেষজ্ঞদের মতে,সরকার ও বিচারবিভাগ এর সমন্বয়ে কমিশন গঠন করে আইনজীবিদের প্রোটেকশন ও প্রটৌকল এর ব্যবস্থা করা অপরিহার্য।

কলামিষ্টঃ অ্যাডভোকেট ডঃ মোঃ কুতুব উদ্দীন চৌধুরী, সুপ্রিমকোর্ট বাংলাদেশ।