ডিশ ব্যবসা নিয়ে বাড়ছে খুনোখুনি | |

ডিশ ব্যবসা নিয়ে বাড়ছে খুনোখুনি

ডিশ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছে মারামারি-গোলাগুলি ও ঘটছে খুনোখুনির ঘটনা। লাইন সম্প্রসারণ নিয়ে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও সরকারদলীয় ক্যাডারদের চাঁদাবাজির কারণেই মূলত এসব ঘটনা ঘটছে। হামলায় শুধু ডিশ ব্যবসায়ীই যে আক্রান্ত হচ্ছেন তা নয়, গুম-খুন ও হামলার শিকার হচ্ছেন সরকারদলীয় নেতাকর্মীরাও। সর্বশেষ রাজধানীর শেরেবাংলানগরে মো. সাইফুল ইসলাম নামে এক ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসায়ী এবং তার ভাইকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। তাদের রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে নিয়ে যান শেরেবাংলা নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাশফিকুর রহমান উজ্জ্ব¡ল ও তার সহযোগীরা। পরে সেখানে নিয়ে মারধর করা হয় ৫০ হাজার টাকা চাঁদার জন্য।

গত ১৮মে শুক্রবার সন্ধ্যায় পশ্চিম কাফরুলের বউবাজার এলাকায় (মোল্লাপাড়া মসজিদ গলি) অবস্থিত উজ্জ্ব¡লের অফিসে নিয়ে দুই ভাইয়ের শরীরে বোমা বেঁধে টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন নির্যাতিতরা। সাইফুল ইসলাম এখন পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় ঐদিন মধ্যরাতে শেরেবাংলা নগর থানায় ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ জানালেও গতকাল পর্যন্ত মামলা নেয়নি পুলিশ। ১৭ই মে বৃহস্পতিবারও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাশফিকুর রহমান উজ্জ্বলের বিরুদ্ধে একই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন অপর এক ক্যাবল ব্যবসায়ী, যার জিডি নম্বর ১০৯০।

রাজধানীর বাড্ডা, ভাটারা গুলশান থানা এলাকায় ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ৯ মে খুন হন ডিশ ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাক বাবু ওরফে ‘ডিশ বাবু’। রবিন গ্রুপ এ হত্যাকা- ঘটায়। মালয়েশিয়া থেকে আসে হত্যার নির্দেশনা।

আধিপত্যের দ্বন্দ্বে গত ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রামের চকবাজার থানাধীন ডিসি রোড এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় যুবলীগ নেতা ও ডিশ ব্যবসায়ী ফরিদুল ইসলামকে। ডিশ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গত ৯ আগস্ট রাজধানীর মোহাম্মদপুরের হাউজিং এলাকায় তছির উদ্দিন নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। শুধু রাজধানী বা চট্টগ্রামই নয়, চাঁদাবাজি আর ডিশলাইন ধরে রাখার লড়াইয়ে গত এক বছরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, দোহার, বগুড়া, নেত্রকোনাসহ সারাদেশে শতাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় খুন হয়েছেন ১৩ জন। যাদের মধ্যে অধিকাংশই রাজনৈতিক নেতাকর্মী।

ডিজিটাল ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের মালিক সাইফুল ইসলাম জানান, পশ্চিম আগারগাঁওয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। বেশ কিছুদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা উজ্জ্বল ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় গত শুক্রবার বিকাল ৪টার দিকে পশ্চিম আগারগাঁও জাতীয় সংসদ সচিবালয় স্টাফ কোয়ার্টারসংলগ্ন রাস্তার ৪৪৮ নম্বর বাসায় ডিশ সংযোগ দেওয়ার সময় ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও তার সহযোগী কালা মাসুদ, হালিমসহ তাদের সাঙ্গোপাঙ্গরা কাজ বন্ধ করে দেয়। প্রতিবাদ করলে মাশফিকুর উজ্জ্বল ও তার সহযোগীরা রাস্তায় ফেলেই বেধড়ক পেটায় সাইফুল ও তার ছোট ভাই সালমানকে।

পরে টেনেহিঁচড়ে উজ্জ্বলের গাড়িতে উঠিয়ে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম কাফরুলের বউবাজার এলাকায় অবস্থিত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার অফিসে। এর পর অফিসটির বাথরুমে বেঁধে দুই ভাইকে আরেক দফা পেটানো হয়। একপর্যায়ে ফিল্মিস্টাইলে ডিশ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের গলায় তাজা বোমা ঝুলিয়ে টাকা দাবি করেন অভিযুক্তরা।

তারা বলেন, এলাকায় ডিশের ব্যবসা করতে হলে সাইফুলকে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। দুই ভাইয়ের প্রাণ বাঁচাতে সব শর্ত মেনে নিয়ে সাইফুল ও তার ভাইকে ওই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার টর্চার সেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন সাইফুলের স্বজনরা। রাতে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাদের ‘পুলিশ কেইস’ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল হাসপাতাল থেকে। শুক্রবার রাতে মামলা করতে শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীরা। কিন্তু রহস্যজনক কারণে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ। এদিকে সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও সাইফুল ইসলাম জানান।

প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও মামলা রেকর্ড না হওয়ার বিষয়ে সাইফুলের অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (শেরেবাংলা নগর থানা) রুহুল আমিন বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে।

ডিশ ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামের অভিযোগ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে শেরেবাংলা নগর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাশফিকুর রহমান উজ্জ্বল বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে এমনকি কারাগারে বসেও এলাকার ছোট ভাইদের দিয়ে অল্প পুঁজির বহুগুণ লাভের ডিশ ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করে আসছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করে ডিশ ব্যবসা থেকে নিয়মিত বখরা পেয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট থানাপুলিশের অসাধু কর্মকর্তারা। এ জন্য অধিকাংশ অপরাধের ঘটনায় মূল হোতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। সূত্র: আমাদেরসময়