ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই | |

ট্রেনে তিল ধারণের ঠাঁই

ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে পা ফেলানোর জায়গা নেই কমলাপুর রেল স্টেশনে। স্রোতের মতো মানুষ এখন ছুটছে কমলাপুরের দিকে। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রীতে ঠাসা অবস্থায় ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। মহাসড়কে যানজট এড়াতে যাত্রার জন্য বহু মানুষ ট্রেনকে বেছে নেয়ায় এই ভিড় হয়েছে।

পবিত্র শবে কদরের ছুটি হওয়ায় আজ অনেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন, যদিও আগামীকাল অফিস খোলা আছে। অনেকে ছুটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ছুটছেন বাড়ির পানে।

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বুধবার ভোর থেকে ঈদযাত্রীরা আসতে শুরু করে। সকাল ছয়টার আগেই স্টেশনের প্রতিটি প্লাটফর্মেই হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতে থাকে। প্রতিটি ট্রেনেই ছিল যাত্রীতে ঠাসা।

সায়েদাবাদ থেকে এসেছেন আখতারুজ্জামান। যাবেন রংপুরে। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘ট্রেনে জায়গা পাওয়া যাবে না বিষয়টি আগে থেকেই জানি। পরিবার নিয়ে মানুষের ভিড় ঠেলে ট্রেনে ওঠা কষ্টকর হবে। এজন্য সকাল-সকাল এসেছি। তারপরেও কষ্ট হলেও আত্মীয়স্বজনদের সাথে ঈদের আনন্দটা ভাগ করতে বাড়ি যাচ্ছি এতেই ভালো লাগছে।’

খাদেমুল নামে এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তিনিও যাবেন রংপুরে। ঢাকার উত্তরায় থাকলেও তিনি ট্রেনে উঠতে স্ত্রী-মেয়েকে নিয়ে কমলাপুরে এসেছেন। কারণ জানতে চাইলে খাদেমুল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গতবার টিকিট কেটেও ভিড়ের কারণে বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেনে উঠতে পারিনি। পরে অনেক কষ্ট করে গাড়িতে করে বাড়ি ফিরতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে এবার কমলাপুরে এসেছি। আশা করছি খুব ভালোভাবেই বাড়ি ফিরতে পারবো।’

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ ট্রেন সময়মতো স্টেশন ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, অন্যদিন কমলাপুর থেকে ৬৬টি ট্রেন ছেড়ে গেলেও বুধবার থেকে আরও পাঁচটি ট্রেন যোগ হয়েছে। আজ ৩২টি আন্তঃনগর ট্রেন, পাঁচটি ঈদ স্পেশাল, ৩৪টি মেইল এবং লোকাল ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।

এদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে কমলাপুর স্টেশনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য কাজ করছে।