বৃষ্টি ও রমজানের অজুহাতে পণ্যমূল্য বাড়াচ্ছেন বিক্রেতারা | |

বৃষ্টি ও রমজানের অজুহাতে পণ্যমূল্য বাড়াচ্ছেন বিক্রেতারা

প্রতি বছরই রমজান মাস সামনে রেখে হু হু করে বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ইতোমধ্যে রমজান সামনে রেখে চিনি, ভোজ্যতেল, ছোলা, সব রকম সবজি, পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর দাম বেড়েছে। তবে চাল, ডাল, ডিম আর মাংসের বাজারে কিছুটা স্বস্তি।

গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রায় ৫ টাকা বেড়েছে, ভোজ্যতেল মণপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ১৫ টাকা এবং ছোলার দাম দু-তিন দিনের ব্যবধানে মণপ্রতি ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টির পাশাপাশি পাইকারি বাজারে দাম বাড়তি হওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। প্রতি বছর রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয় বলেও স্বীকার করছেন কিছু ব্যবসায়ী।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ৪৫ টাকা বিক্রি হওয়া দেশি পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। আর  আমদানি করা পেঁয়াজ ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর সঙ্গে চড়া দামে নতুন করে এখন যুক্ত হয়েছে রসুনও। চলতি সপ্তাহেই কেজিপ্রতি রসুন ৬০ টাকা থেকে এক লাফে বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮০ টাকায়। কেজিতে বেড়েছে ২০টাকা। আদা ১০০ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা।

কাঠাঁল বাগান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা ব্যাংক কর্তমকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘ চাকরির কারণে সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ বাজারে কেনাকাটা করি। কিন্তু গত দুই সপ্তাহ ধরে দামের ভিন্নতা বেশি দেখা গেছে। সবজির দামটা একটু বেশি বেড়ে গেছে। তাছাড়া মসলার দামটাও একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে।’

অন্যদিকে সবজি ভেদে সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কারওয়ান বাজারে চিচিঙা, পটল, ধুন্দুল, করলা খুচরা দামে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। যা গত সপ্তাহে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকা কেজি দরে। পেঁপে, শসা, বরবটি ও ঢেঁড়স যথাক্রমে ৩৫-৪০ থেকে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

সবজি কিংবা মসলার দামে অস্বস্তি হলেও চালের বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। খুচরা বাজারে পাইজাম প্রতি বস্তা ২০০০-২০৫০ টাকা, ‍মিনিকেট চাল নতুন প্রতি বস্তা ২৭৫০ টাকা, পুরাতন ২৯৫০, আটাশ নতুন ২২০০, পুরাতন ২৩৫০ টাকা, নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে চাল ভেদে ২৩০০ খেতে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ইলিশের সরবরাহ খুব একটা না থাকলেও ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ৭০০-৮০০ টাকা ও ৬০০ গ্রাম রাখা হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। প্রতি কেজি মাঝারি ধরনের বাগদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়, গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, কাতল মাছ ২৫০-২৮০ টাকা, শিং ৩৫০-৩৮০ টাকা, পাঙ্গাশ ১২০-১৩০ টাকা, তেলাপিয়া ১৩০-১৫০ টাকা।

মাংসের বাজারও গত সপ্তাহের দাম অনুযায়ী স্থির রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৩০-১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তানি লেয়ার কেজি ১৮০-২০০ টাকা। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা, খাসির মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা, ছাগলের মাংস ৬৫০-৭০০ টাকা, মহিষের মাংস ৪৪০-৪৫০ টাকা এবং প্রতি হালি ফার্মের ডিম ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রমজান মাস সামনে রেখে প্রতিদিনিই ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে আগে থেকে প্রস্তুতি, নজরদারি ও সতর্কতার উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন ক্রেতা সাধারণ।