‘বঙ্গবন্ধু ভবন’ করতে চান মমতা | |

‘বঙ্গবন্ধু ভবন’ করতে চান মমতা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি ভবন করতে চান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কবিগুরু করীবন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ভবন’ উদ্বোধন করতে গিয়ে এই ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় সেখানে ছিলেন মমতাও।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ভবন মিলনায়তনে হয় বক্তৃতাপর্ব। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে মমতা এই ভবনটি দেখে মুগ্ধ হওয়ার কথা বলেন।

ভবনটি উদ্বোধনের তারিখটিকে ‘গর্বের দিন’ উল্লেখ করে তাকে আমন্ত্রণ জানানোয় কৃতজ্ঞতা জানান মমতা। বলেন, ‘ভবনটি দারুণ’ হয়েছে’।

‘এত সুন্দর লেগেছে, আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে, বিউটিফুল’।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর নামেও একটা একটা ‘বঙ্গবন্ধু ভবন’ করতে চাই। যখনই দেবেন সুযোগ, আমরা কবর।’

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া জমিতে বাংলাদেশের অর্থায়নে ভবনটি নির্মিত হয়েছে। এতে থাকা একটি বিশাল পাঠাগারে মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতির বিষয়ে চর্চার সুযোগ পাবে কলকাতার বাঙালিরা।

২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সে সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির মধ্যে আলোচনায় এই ভবনটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

এই ‘বাংলাদেশ ভবন’টা আগামী দিনে একটা ‘তীর্থস্থান’ হয়ে যাবে বলে মনে করেন মমতা। বলেন ‘বিশ্ব বাংলার একটা বড় প্রাণকেন্দ্র হয়ে যাবে আগামী দিন।’

‘আর বাংলাদেশ ও ভারতবর্ষের যে নিবিঢ় সম্পর্ক তাকে আরও সুদৃঢ় করতে শান্তিনিকেতন যে কাজ করেছে, বিশেষ করে বিশ্বভারতী, তাদেরকে আরও আরও ধন্যবাদ জানাই।’

এর আগে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ করেন মমতা। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা মনে পড়ছে বারবার।’

১৯৭১ সাল থেকে শুরু হওয়া দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে মমতা বলেন, ‘অবিরম, অবিচল, একেবারে পদ্মা, মেঘনা, যমুনার মতো, অনেক জল গড়িয়ে গেছে, অনেক জল গড়াবে, কিন্তু দুই দেশের সম্পর্ক আরও অনেক অনেক ভালো হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।’

দুই বাংলায় সমানভাবে সমাদৃত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নজরুল ইসলামকে ‘একই বৃন্দের দুটি কুসুম’ আখ্যা দেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের জাতীয় কবির নামে তারা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন। শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেখানে সম্মাননা দেয়া হবে। আরও হয়েছে বিমানবন্দর থেকে নানা স্থাপনা।

বাংলাদেশের মানুষকে রোজা এবং ঈদের আগাম শুভেচ্ছাও জানাতে ভুলেননি মমতা বন্দোপাধ্যায়।