ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৫ কিলোমিটার যানজট | |

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৫ কিলোমিটার যানজট

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৫ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

সোমবার সকালে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে বেকিনগর পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট দেখা যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।

জানা যায়, অতিরিক্ত যানবাহন ও এলোমেলো যান চলাচলের কারণে গতকাল রবিবার রাত সাড়ে আটটা থেকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র জটের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের কয়েকজন যাত্রী জানান, রাত সাড়ে আটটায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় রওনা দিয়েছেন। ১২ ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকে আছেন। যানজট না থাকলে চার ঘণ্টায় পৌঁছে যান তাঁরা।

ওই বাসের সুপারভাইজার মোস্তফা কামাল বলেন, ‘গত দুই দিনে ৪ ঘণ্টার পথ অতিক্রম করতে ১২ ঘণ্টা সময় লাগছে। দীর্ঘ সময় যানজটে বসে থেকে থেকে চালক আজ সকাল ৬টা ২০ মিনিটে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থ হলেও ঝুঁকি নিয়ে যাচ্ছি আমরা।’

কোম্পানীগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী তিশা পরিবহনের বাসের চালক জুয়েল মিয়া, রামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আল আরাফা বাসের চালক মোস্তফা কামাল, কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী রয়েল কোচের চালক আল-আমিন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী কাভার্ড ভ্যানের চালক আজাদ রহমান ও মাহবুব আলম একই দুর্ভোগের কথা বলেন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম বলেন, কুমিল্লা থেকে পাপিয়া বাসযোগে সকাল সাড়ে ছয়টায় দাউদকান্দি রওনা দেয়। তীব্র যানজটে আটকা পড়ে সকাল ১০টায় বৃষ্টিতে ভিজে বিকল্প পথে পৌঁছতে হয়েছে।

দাউদকান্দির ড. মোশাররফ হোসেন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া, শাহাদাত, রায়হান, রুমা, সুমাইয়া ও আনিকা বলেন, বাড়ি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলেজে রওনা দিয়েছিল। তীব্র যানজটে দুই ঘণ্টা আটকে থাকার পর কলেজে না গিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছে তারা। ।

অনেকে জানান, যানজটে আটকা থাকার কারণে ভাড়াও বেশি গুনতে হচ্ছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত (ওসি) আবুল কামাল আজাদ বলেন, ফেনীর যানজটের গাড়িগুলো একযোগে দাউদকান্দিতে আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে পুলিশ প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে।